স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়ে অপ্রতীম হত্যার বিচার দাবি যুব মৈত্রীর

অপ্রতীম। ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের শিশু সন্তান অপ্রতীমের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী। একই সঙ্গে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ, শোক ও তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেছেন, শিশুকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হবে-এ বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর লজ্জার। এ লজ্জা রাষ্ট্রের, এ লজ্জা অধঃপতিত সমাজের।
তারা বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ আজ মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঘর থেকে বেরিয়ে শিশু নিরাপদে বেড়ে উঠবে কি না সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অপরাধীরা যদি রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের আশ্রয়ে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ পায়, তাহলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলেও মন্তব্য করেন যুব মৈত্রীর নেতারা।
তাদের ভাষ্য, মানুষের জীবন ও মানবিক সম্পর্ক যখন মুনাফা, ভোগ, লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে ক্রমাগত পরাজিত হয়, অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ড সেই বৃহত্তর সামাজিক অবক্ষয়ের একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ। অপরাধীর পরিচয়, ক্ষমতা বা প্রভাব যাই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি করতেই হবে।
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি ।
বিবৃতিতে তারা বলছিলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু, প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বাঁচতে পারে।
তারা আরও বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি নাগরিকের অধিকার। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। অপ্রতীম হত্যার বিচার চাই।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



