আত্মমর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নেব, জাতির উদ্দেশে নাহিদ

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জনগণ যদি এনসিপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঘাটতি এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এনে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করব। তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক শাসকদের নতজানু নীতিকাঠামো ভেঙে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাপূর্ণ স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করব। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছি— বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত লুকিয়ে থাকা সকল অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি বিধান করা হবে।
ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। খুনি হাসিনার দোসর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ বাহিনীর বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পুলিশ ব্যাপক নৃশংসতা করেছে। আমরা সরকার গঠন করলে, জুলাই বিপ্লবের সময় এবং এর পূর্বাপর ১৫ বছর ধরে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হত্যা, নির্যাতন, জুলুম, মিথ্যা মামলা, দস্যুবৃত্তি করে অর্থ লোপাট ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল- তাদের প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বিচার সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশকে খোলনলচে বদলে পুনর্গঠন করা হবে। দেশ ও জনগণের সেবা হবে পুলিশের একমাত্র মন্ত্র। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় সংকীর্ণ মনোভাবের সংস্কৃতিকে কবর দিয়ে বাহিনীকে জন নিরাপত্তার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ক্ষমতায় গেলে পুলিশ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে 'জনসেবক বাহিনী' বা অন্যকিছু রাখা হবে বলে জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে একে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পুনর্গঠন করা হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়োগ এবং সেখানেই পদায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সমান সংখ্যক নারী ও পুরুষ সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

