সংসদীয় দলের সভা
আইনশৃঙ্খলা-বিদ্যুৎ-সার ইস্যুতে এমপিদের সহায়তা চায় সরকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় সভা শুরু হয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে শেষ হয়।
সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার নিয়ে মানুষ যাতে সরকারকে ভুল না বোঝে, সেজন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার দল। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে সরকার যে আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে— এই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সভায়।
এ ছাড়া, মন্ত্রী-এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে দলের সঙ্গে কার্যত শেষদিন পার করেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।
আজকের সভা সূত্র জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। কৃষিমন্ত্রী সংসদ সদস্য না হওয়ায় তার পরিবর্তে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সরকার দেশের কোথাও মব কালচার চায় না। তবে কোথাও কোথাও এখনো মব কালচার লক্ষ করা যাচ্ছে। এমনকি সেখানে বিএনপির লোকজনও জড়িত বলে দেখা যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার এবং মাঠপর্যায়ে সরকারবিরোধী ক্ষেত্র তৈরি করার সুযোগ পেয়ে যাবে। বিরোধীদের এমন কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।’
এ বিষয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘অন্যথায় আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, সেক্ষেত্রে কারও মুখ দেখা হবে না। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিরোধী মতের মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করা পুলিশের অনেক কর্মকর্তা এখনো ওসি ও অন্যান্য পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। তাদের অভিমত, এদের কারণে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। জবাবে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নাম দিতে সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রশ্ন করেন একাধিক সংসদ সদস্য। জবাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে আগের সরকার (বিগত আওয়ামী লীগ সরকার) যে বিদ্যুৎ অবকাঠামো রেখে গেছে, তাতে এখনই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা হবে।’
সার নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তার ভাষ্য, ‘সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয়, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। তবে কেউ যাতে সার নিয়ে কোনো ধরনের স্যাবোটাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সভায় তিনি জানান, অনেক ইউনিয়নে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগকৃত সার ডিলাররা পলাতক রয়েছেন। সংকট নিরসনে এসব এলাকায় শিগগিরই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সারা দেশে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে উপজেলাভিত্তিক কমিটিও গঠন করা হবে।
সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সভায় যে ব্রিফিং দিয়েছেন, আপনারা তা নিজ নিজ এলাকায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন— যাতে সরকার সম্পর্কে মানুষ ভুল না বোঝে।’
আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে এরই মধ্যে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তারেক রহমান সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় উপস্থিত থেকে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার বা প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে— সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি এর জবাব দেওয়ারও নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া জনকল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উদ্যোগের বিষয়েও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘জনপ্রিয় ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া এবং তাকে বিজয়ী করতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেন তারেক রহমান। তবে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন, কোনো নেতা দলীয় সমর্থন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে— তিনি বিজয়ী হয়ে গেলেন। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, ভোটারদের মন জয় করেই বিজয়ী হতে হবে।










