মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান—ফাইল ছবি
মক্কা প্যাক্টে যোগদানের প্রস্তাব এলে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্ট ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় নেই। এটি নির্ভর করছে সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আসার আগে প্যাক্টটির ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। তবে সরকার এ বিষয়ে সব দিক বিবেচনায় রাখবে।’
এর আগে গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মক্কা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে সেখানে না যাওয়াই অস্বাভাবিক। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।’
কী বলছে বিরোধী দল
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদানকে দেশের একান্ত নিজস্ব বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।’
মক্কা চুক্তি আসলে চুক্তি কি?
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মক্কা চুক্তি’। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।
চুক্তিতে একই সঙ্গে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অঞ্চল ও তার বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, কোনো এক দেশ বিপদে পড়লে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র মোতায়েনের বাধ্যবাধকতা কিংবা আক্রান্ত হলে কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটি নির্ধারিত হয়নি চুক্তিতে।
এক দেশ আক্রমণের শিকার হলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশের এগিয়ে আসার বিষয়টিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ‘কার্যত একই’ বলে বর্ণনা করেছেন।








