যুবকরা বেকার ভাতা নয়, কাজ চায়—বললেন জামায়াত আমির

ফাইল ছবি
বিএনপির বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকরা বেকার ভাতা নয়, কাজ চায়। চব্বিশের বিপ্লবে যুবকরা বেকার ভাতার কথা বলেনি। তারা মেধার ভিত্তিতে কাজ চেয়েছিল। তারা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করতে চায়।
সোমবার দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম। মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়ে যায়, চৈত্র মাসে কী হবে?
তিনি বলেন, যেদিকে যায় মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে ওঠে। মানুষ যখন নিজের ব্যর্থতার গ্লানি নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখে সর্ষে ফুল ফোটে।
জামায়াত আমির বলেন, যে যুবকরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, ওই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা জেগে আছে।
জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপ্লব সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান অপরিসীম। মায়েরা যেদিন রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেদিন স্বৈরাচার বুঝেছিল- তাদের আয়ু শেষ। দিশেহারা হয়ে ৩১ জুলাই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই।
একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন স্ট্যান্ডে, দোকানে, মিল-ফ্যাক্টরি-কারখানায়, ঘরবাড়িতে সব জায়গায় গিলে বললো—‘আমি চাঁদাবাজ, আমার অংশ আমাকে দাও, আমার অংশ না দিয়ে তুমি কিছু করতে পারবা না।’
তিনি বলেন, আমরা অপরাধ-দুর্নীতি বরদাশত করবো না। আমরা অপরাধের কান ধরে টান দেবো। বিগত ৫৪ বছরের নেতৃত্ব আমাদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি। এজন্য জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে নিজেরা বড়লোক হয়েছে, কিন্তু জনগণের পাওনা জনগণ পায়নি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ চায় না, তারা পুরনো বন্দোবস্ত চায়। তারাই যেনতেন একটি বাংলাদেশ চায়। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।















