সরকার আওয়ামী লীগের বিষয়ে নমনীয়, অভিযোগ পাটওয়ারীর
- পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে ভারত
- অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে

চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী- ভিডিও থেকে
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার আওয়ামী লীগের বিষয়ে নমনীয়। আশা করি সরকার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেবে। আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেছেন তিনি।
পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন ছাত্রদলের ওপর তারা হামলা করেছে। হামলা থেকে কোনো মানুষ বাদ যাচ্ছে না। নেত্রকোনায় হামলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরে একটা ছেলেকে তারা ধরে নিয়ে জয় বাংলা স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। মিডিয়ায় আসে আওয়ামী লীগ মাঠে নামছে। তারা কিন্তু জোর করে মানুষকে এসবে নিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার আওয়ামী লীগের বিষয়ে নমনীয়। আশা করি সরকার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেবে। যাতে জিয়াউর রহমানের আমলে যেভাবে আওয়ামী লীগ নতুনভাবে পুনর্জীবন লাভ করেছিল। পরে খালেদা জিয়াকে অত্যাচার-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে তারা যেন জনগণকে এ ধরনের হুমকির মধ্যে আর না ফেলে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন বাংলাদেশেই হয়। আর যাতে তারা কখনো ১৪০০ ভাই-বোনকে খুনের সিদ্ধান্ত না নিতে পারে, সাহস করতে না পারে। সেই সঙ্গে তাদের খুনি বাহিনীর অন্যতম দোসর আমাদের প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর বিষয়ে যাতে বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যেন মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ মানুষের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।’
তিনি সাংবাদিকদের বললেন, ‘প্রথমে তো ভারতে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। সরকার শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতজানু নীতি নিচ্ছে। ওখানকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে শুধু মুসলিম পরিচয় হওয়ার কারণে অবৈধ বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে তারা। সীমান্তে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমানের শাসনে যেটা হয়েছিল, ওপার থেকে সীমান্তে জিয়াউর রহমানকে ডিস্টার্ব করা হয়েছিল। সেখানে শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই জায়গায় আমরা নমনীয় ভাব দেখতে পাচ্ছি সরকারের মধ্যে। একটা নিষিদ্ধ সংগঠন কীভাবে মাঠে মিছিল করে আমরা সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাই।’
মাঠে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রতিরোধ প্রসঙ্গে এনসিপি নেতার ভাষ্য, ‘এখন আমরা যদি মাঠে নামি, তাহলে বলবে মব। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে, নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তারাই দায়িত্ব নিয়েছে। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কন্ট্রোলের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা মাঠে গিয়ে মব করতে পারব না। সরকার যদি কম্প্রোমাইজে যায়, আমরা সেই জায়গায় কম্প্রোমাইজে যাব না। আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। যদি সরকার এ ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে একদম গলায় গলায় মিলিয়ে দেয়, তাহলে আমাদের আহ্বান থেকে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই থেকে আওয়ামী লীগের কোনো দোসর রক্ষা পাবে না ইনশাআল্লাহ।’
সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে এ নেতার বক্তব্য, ‘আমি সীমান্তে গিয়েছিলাম। এই যে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে, সীমান্তে বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে ধানক্ষেতে পানি এসেছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে মানুষ। তারা পানি চাচ্ছে, বিস্কুট চাচ্ছে, বাচ্চা বাচ্চা সন্তান নিয়ে সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। এতে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে ভারত। সরকারের একজন উপদেষ্টাসহ যে তিনজন মন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন এটা বাংলাদেশের মানুষের কোনো কণ্ঠস্বর না। জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো আকাঙ্ক্ষা না। উনি বলেছেন, বর্ডার কিলিং না। এটা স্পষ্ট বর্ডার কিলিং, যদি সীমান্তে হত্যা হয়। তারা দিল্লিকে ১২টা চিঠি দিয়েছে। একটা চিঠির তো জবাব আসে না, তাহলে চিঠির জবাব যেভাবে আসবে সরকারকে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রশংসা করে পাটওয়ারী বলেছেন, ‘মোটাদাগে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিজিবি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তাদের পেট্রলিং কার নাই। সেখানে আমি গিয়ে দেখেছি মশা-মাছির কামড় খায়। অব্যবস্থাপনার মধ্যে তারা রয়েছে। অল্প কয়টা টাকা বেতন পায় তারা। আমরা সীমান্তের মানুষকে আহ্বান জানাই। মানবপ্রাচীর তৈরি করুন। ঐক্যবদ্ধভাবে বিজিবির সঙ্গে থাকুন। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনারা সাহস করে দাঁড়ান।’
শেখ হাসিনাকে পাঠানোর জন্য এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বললেন, ‘এটা সরাসরি বলা যায় না। আমি মনে করি এখানে ভারতের বিজেপির ওয়ান নেশন পলিসি নিয়েছিল। তারা সব স্টেট থেকে বিধায়কদের ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। তারা গেরুয়া পতাকার অখণ্ড ভারত বানানোর চেষ্টা করছে। সেই অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর তারা নতুনভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের এই ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া চাই। আমরা কোনো সন্ত্রাসী, গুন্ডাগিরি, মাস্তানির এশিয়া চাই না। যেটা ভারতের বিজেপি এবং আরএসএস করছে। বাংলাদেশের মানুষ ইনশাআল্লাহ ঢাকা থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির বার্তা দিচ্ছে। একসময় সাউথ গ্লোবালের লিড বাংলাদেশের হাতে আসবে।’





