নাহিদ ইসলাম
বড় বাজেট মানে বড় দুর্নীতির সুযোগ

ছবি: আগামীর সময়
ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামগ্রিকভাবে একটি দিশাহীন ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে রক্ষার অনুপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেছেন নাহিদ ইসলাম। ‘এই বাজেট দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে ব্যর্থ হবে’— উল্লেখ করেন এনসিপি আহ্বায়ক।
একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আগ্রাসন মোকাবিলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বাজেটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বললেন, ‘এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে? বড় বাজেট মানেই কিন্তু বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হওয়া। বিভিন্ন খাতে কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির নামে কেবল সরকারদলীয় এমপিরাই বরাদ্দ পাচ্ছেন, যা বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না। এখানে কোথাও কোনো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নেই।’
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। ‘অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যে ঋণখেলাপিদের টাকা ফেরত আনা কিংবা আওয়ামী আমলের লুটেরা গোষ্ঠীর অর্থ উদ্ধারের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি। এস আলমসহ যেসব বড় বড় মাফিয়া ও অলিগার্ক ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে এবং এখন বিদেশে আরাম-আয়েশে আছে, তাদের কীভাবে বিচারের আওতায় আনা হবে, সে ধরনের কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি।’
ব্যাংকিং খাতে নতুন সংকট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
দেশের ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতির উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘ইসলামী ব্যাংককে আবারও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই এস আলমের হাতেই তুলে দেওয়ার একধরনের চেষ্টা চলছে।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গতকাল দেখলাম আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে একটি অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে সেটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার একধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামায়াত কিংবা ১১-দলীয় জোটের মতো পক্ষগুলোকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত হানছে।’
সরকারকে সতর্ক করলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। ‘বাংলাদেশে এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সংকট রয়েছে। ব্যাংকিংব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থায় যদি তিন কোটি আমানতকারী শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে তার চেইন-ইফেক্ট বা নেতিবাচক প্রভাব অন্য সব ব্যাংকের ওপর গিয়ে পড়বে।’
তবে তারা শুধু সমালোচনাই করছেন না, বরং সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিকল্প ও টেকসই বাজেটের প্রস্তাবনা অব্যাহত রাখবেন— যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
এদিকে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের সংকটও তুলে ধরলেন । বললেন, ‘সরকার দিল্লিকে ১২টি চিঠি দিয়েছে, কিন্তু একটি চিঠিরও জবাব আসেনি। চিঠির জবাব আদায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।’
সীমান্তে বিজিবির সীমাবদ্ধতা ও ক্যাম্পগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার ভাষ্য, সীমান্তে আমাদের জওয়ানরা মশার কামড় খান, মাছির কামড় খান। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে তারা দিন কাটাচ্ছেন, অথচ তারা সামান্য বেতন পান। তাদের পর্যাপ্ত পেট্রোলিং সুবিধা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নেই।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেছেন, ‘মানবপ্রাচীর গড়ে তুলুন। ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশে থাকুন। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সঙ্গে আছে। সাহস করে দাঁড়ান।’
সাবেক বিডিআরের (বাংলাদেশ রাইফেলস) ঐতিহ্যবাহী গৌরব ও বীরত্বের কথা স্মরণ করতে ভোলেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ‘বাংলাদেশের এই দেশপ্রেমিক বাহিনী, সাবেক বিডিআর, সীমান্তে যেভাবে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমান বিজিবির কাছেও আমরা ঠিক সেই ভূমিকা দেখতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১৮ কোটি মানুষ আছে, আমাদের রক্ত ও স্পৃহা আছে। ১৯৭১ সালের মতোই যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারব।’
এর আগে চট্টগ্রামের ষোলশহরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।




