অংশীদারত্বের গণতন্ত্রই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত: জেএসডি

জেএসডি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কথা বলেন শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রচলিত কাঠামো নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে।
রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জেএসডি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। জেএসডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র জেএসডির আহ্বায়ক মো. এনামুল হায়দারের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সামছু উদ্দিন আহমেদ শামীম। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখিকা আমেনা আজিজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিমন ইসলাম, জেএসডির উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র জেএসডির যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম উদ্দিন খান, এম জাকির হোসেন স্বপন, গাজী আজম বাদল, মো. রফিক উল্লাহ ও ফরিদ উদ্দিন রতন।
শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বললেন, পুরোনো রাজনীতির কাঠামোর মধ্যে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতাকে আবার পুরোনো ক্ষমতার রাজনীতিতে ফিরিয়ে না নিয়ে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। আর এই সংস্কারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে অংশীদারত্বের গণতন্ত্র।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়; রাষ্ট্র পরিচালনায় সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল কথা। শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, কৃষক, নারী, তরুণ, প্রবাসী ও ভিন্নমতাবলম্বী—সব শ্রেণি ও মতের মানুষের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে।
তার দাবি, কোনো একক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে রাষ্ট্রের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং নির্বাহী বিভাগের কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বপন উল্লেখ করেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়। গণতন্ত্রকে নির্বাচন থেকে অংশগ্রহণে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অংশীদারত্বে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ থেকে বিকেন্দ্রীকরণের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন পোশাকে ফিরে আসতে পারে। তাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষমতা দখলের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র রূপান্তরের রাজনীতিতে উত্তরণ। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রজাতন্ত্র চাই, যেখানে রাষ্ট্র কোনো দলের নয়—জনগণের; সরকার কোনো দলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়—জনগণের অর্পিত দায়িত্ব; আর ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার নয়—জনগণের অর্পিত সাংবিধানিক আমানত।’






