তিন দিনের কাউন্টডাউনে ভোটের সমীকরণ

সংগৃহীত ছবি
বাংলদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি,সারাবিশ্বের কাছে এ নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে । বিশ্ব মিডিয়ার চোখ এখন আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফলোআপ নিউজ কাভার করছে । আলজাজিরা,বিবিসি’র মতো বেশকিছু মিডিয়ার শিরোনাম হচ্ছে এই নির্বাচন।
দল ও প্রার্থীদের প্রচারণার সময় আছে আর মাত্র তিন দিন।
তাই বলা যায়, নির্বাচনী রাজনীতি এখন অন্তিম সমীকরণের প্রান্তে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সীমা অনুসারে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। সে কারণে এই তিন দিনের মধ্যেই নিজেদের পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী করার জন্য সর্বশেষ চেষ্টায় সক্রিয় দল ও প্রার্থীরা।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রধান দলগুলোর কর্মসূচি থেকে যেমনটা আভাস মিলছে, এই শেষ তিন দিন ঢাকাসহ দেশজুড়ে মিছিল ও নির্বাচনী সভায় সরগরম থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ,এ সময় অসহিষ্ণু আচরণ না কমলে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে ।সার্বিক এই পরিস্থিতিতে আগামী রবিবার থেকে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের আগেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি, বিধায় ৬২টি জেলার ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, গত ২২ জানয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচারে ক্রমেই রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু আচরণ বেড়েছে। গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান , ‘প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রয়োগ হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতে এই অসহিষ্ণু আচরণ বহাল থাকলে তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারার আশঙ্কা রয়েছে, যা মোটেই কাম্য নয়। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে বড় দুটি দলের নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্য থেকে সরে আসা দরকার।’
গত ২০ জানুয়ারি এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনী পাঁচ হাজার এবং বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০ জন সেনা মোতায়েন করেছে। উপকূলীয় দুই জেলায় দায়িত্ব পালন করবে নৌবাহিনী।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের শেষ জনসভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।এই জনসভাকে নির্বাচনপূর্ব চূড়ান্ত শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে দলটি। জনসভায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় তুলে ধরবেন তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারের শেষ এই জনসভাটি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
দলীয় নেতারা জানান, এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যান আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নড়াইল, ফরিদপুর সদর ও বোয়ালমারী এবং আগামীকাল শনিবার হবিগঞ্জ, কুলাউড়া, সুনামগঞ্জ ও সিলেট মহানগরীতে নির্বাচনী জনসভা করতে পারেন। রবিবার ও সোমবার তিনি ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ ও গণমিছিলে যোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সমাপ্তি টানতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে এ নির্বাচনের সকল বিষয়ে নজর রাখছেন । সুষ্ঠু নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন ।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা জানিয়েছি, ১১৬টি আসনে ব্যালট পেপার পাঠিয়েছি। বাকিগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পাঠানো হবে। চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই বলেছি ‘অপতথ্য’। আমরা মেটার সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, মেটা আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা চাই না ইন্টারনেটের স্পিড কমানো হোক। আক্রমণাত্মক কন্টেন্ট ডাউন করতে মেটাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

