বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দাগিরি বিপজ্জনক: হাসনাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি: কোলাজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বক্তব্যের সূত্র ধরে বিরোধী দলের ওপর সরকারিভাবে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ তুললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এই সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধী দলের ওপরে গোয়েন্দাগিরি করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
‘বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার এ সংস্কৃতি আমাদের তো হাসিনার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।’
সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে জনসভায় বলেছিলেন, এ বিষয়ে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ তৈরিতে অর্থ সরবরাহ করছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এতে যুক্ত হয়েছে।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান দৃশ্যত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর যোগসাজশের দিকে ইঙ্গিত করেন।
তার সেই বক্তব্য ধরে মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের নির্বাচনী জোটসঙ্গী এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী কি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার ঘোষণা প্রকাশ্যে দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি কোনো দলের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা? নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা?’
আওয়ামী লীগ আমলে এ ধরনের চর্চার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের এ নেতা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ থেকে সরিয়ে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের পেছনে লেলিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী দলকে টার্গেট করে নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার করা প্রমাণিতভাবে একটি ফ্যাসিবাদী চরিত্র। প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়— যা নিন্দনীয়।’
ক্ষমতাসীনদের হুঁশিয়ার করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরকারি দলের সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো দলের দলদাস হওয়ার জন্য তৈরি করা হয় নাই। বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের সেবক।’
‘সরকার এবং বিরোধী দলসহ ১৮ কোটি মানুষের হয়ে কাজ করার জন্যই সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে দেশের বদলে দলের হীন স্বার্থ রক্ষার কাজে লাগানো মানে শুধু সাধারণ একটা নিয়ম ভঙ্গ করা না; বরং এটি জনগণের অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করা।’
বিএনপি সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন এনসিপির এ সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, নানা প্রকল্পের নামে ‘দুর্নীতির মহড়া’ চলছে।



