মজুরি না বাড়িয়ে বলপ্রয়োগে শান্তি ফিরবে না: সিপিবি

ছবি: আগামীর সময়
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে সাড়া না দিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর পল্টন মোড়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেছেন তিনি। শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে সিপিবি।
মুজাহিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত পোশাকশিল্প। এ শিল্পের শ্রমিকরা নিজেদের শ্রম ও ঘামে উৎপাদন সচল রেখেছেন। অথচ তাদের এমন মজুরি দেওয়া হচ্ছে না, যা দিয়ে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ন্যূনতম ব্যয় মেটানো সম্ভব।
‘রাজধানীর মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ হামলা, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে নির্যাতনের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে শান্তি ও উৎপাদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়’— যোগ করেন তিনি।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মাহাবুব আলম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম।
‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি কোনো অপরাধ নয়’
মাহাবুব আলম বলেছেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু একদিকে মজুরি বোর্ড গঠন, অন্যদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগ পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপ। মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিক প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
মন্টু ঘোষ বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি কোনো অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন, হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানালেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা ও বলপ্রয়োগ বন্ধ, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানালেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ এবং দ্রুত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেন তিনি।
‘মালিক, সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে’— যোগ করেন রতন।




