আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ : ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা

ছবি: আগামীর সময়
সাভারের আশুলিয়ায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং অহেতুক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়ার অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় শনিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর, কাঠগড়া, জিরাবো ও নরসিংহপুর এলাকা ঘুরে থমথমে পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার 'নিউ এইজ অ্যাপারেলস' ও 'নিউ এইজ গার্মেন্টস'-এর শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে এই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্যান্য কারখানায়। একপর্যায়ে আল-মুসলিম, কন্টিনেন্টাল, কাঠগড়ার এআর জিন্স, নাঈম সোয়েটার, নরসিংহপুরের এফএনএফ গার্মেন্টস এবং জিরাবো এলাকার ট্রাউজার লাইন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
দুপুরে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একজোটে সংগঠিত হতে থাকলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শিল্প পুলিশের অন্তত ৫ জন সদস্য এবং বেশ কয়েকজন পোশাক শ্রমিক আহত হন।
নিউ এইজ অ্যাপারেলসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের সবকিছুর দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, কিন্তু আমাদের বেতন বাড়েনি। এই অল্প টাকায় পরিবার নিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেতন না বাড়ালে আমরা বাঁচব কীভাবে?
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, অক্টোবরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল সরকারের। কিন্তু ৩০ অক্টোবর পার হয়ে গেলেও তা গঠিত না হওয়ায় শ্রমিকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকদের হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে দুপুরের দিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও কারখানা নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতি থাকলেও দুপুরের পর যৌথ চেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।




