ডেঙ্গু সচেতনতায় কড়াইলে ৩ হাজার মশারী বিতরণ জামায়াতের

রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় জনসাধারণের মাঝে ৩ হাজার মশারী বিতরণ করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার বিস্তার রোধে রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় জনসাধারণের মাঝে ৩ হাজার মশারী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ শনিবার বনানী মডেল হাই স্কুল মাঠে জামায়াতের গুলশান পশ্চিম থানার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের সৌজন্যে এ মশারী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মশারী বিতরণ করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীও।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
ক্ষমতাবানদের স্বার্থে আইন ব্যবহৃত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, লোহার রড দিয়ে হামলা, এমনকি অফিস ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে জনগণের সমস্যা বোঝেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে।
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগামী দিনে জনগণ আর চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সমর্থন করবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়। তাই আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানি ও ময়লা জমে থাকা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সমাজের বৈষম্য, মানুষের দুর্ভোগ এবং অধিকারহরণের মতো সমস্যাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রের দায়িত্বে সৎ, যোগ্য এবং আল্লাহভীরু মানুষকে নির্বাচিত করলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও গুলশান জোনের সহকারী পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ, থানা কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম মোস্তফা কাইয়ুম, জয়নাল আবেদীন, আতিকুল ইসলাম, শাহজাহান সরকার, মাওলানা আবদুল মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান ও হাফেজ গোলাম আজম শাহীনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুলশান পশ্চিম থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা মাহমুদুর রহমান আজাদ। সঞ্চালনা করেন থানা সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। মশারী বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।



