তারেক রহমানের ওপর রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ভার
- ডাকা হতে পারে বিশেষ অধিবেশন

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে দলের স্থায়ী কমিটি। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ন্যস্ত করেছে দলের স্থায়ী কমিটি।
গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করতে হবে নতুন রাষ্ট্রপতি।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকের নির্ধারিত এজেন্ডা অনুযায়ী দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বিস্তারিত। এজেন্ডার বাইরে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়েও অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হলেও প্রার্থী দলীয়ভাবে নাকি দলের বাইরের কাউকে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে তা জানাবেন তিনি।
এ সদস্য আরও জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের জন্য ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা নাও হতে পারে। এর আগেই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে। চলতি আগস্টে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বরের পরপরই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারাদেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি নতুন করে গঠন ও পুনর্গঠন করা হবে। এর আগে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা দ্রুত আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলেও এবার সে বিষয়ে নতুন কোনো আলোচনা হয়নি। পাশাপাশি বৈঠকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও আলোচনা হয়।
বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বছরের শেষেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করবে সরকার।’
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেনসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
এর আগে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পূর্বে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে পৃথক সাংগঠনিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে দলকে সরকার থেকে সাংগঠনিকভাবে পৃথক পরিচয়ে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে সরকারকে সহায়তা করা। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই দল যদি সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তাহলে সরকারেরও ক্ষতি, আবার দলেরও ক্ষতি। এটা হলে একসময়ে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সাংগঠনিক বৈঠকে শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তারেক রহমান। তিনি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম আর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন কোনো নেতা বা কর্মী অপকর্ম করলে এর দায় যেমন দল নেবে না, তেমনি ওই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেও কোনো কার্পণ্য করবে না।’ দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।






