বোমা-সদৃশ বস্তু উদ্ধার
পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

বোমা ও বোমা-সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমা ও বোমা-সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার অপারেশন্স কন্ট্রোল থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ডিউটির সময় ও ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইন্স, অফিস কম্পাউন্ডসহ নির্ধারিত স্থানে রাখা সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে হামলার চেষ্টা করতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সে কারণে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। প্রয়োজন ছাড়া কোনো সরকারি যানবাহন অরক্ষিত অবস্থায় রাখা যাবে না। সাময়িকভাবে কোথাও থামাতে হলে তা নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।
এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘পুলিশের যানবাহন ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এ নির্দেশনায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।’
এদিকে রাজধানীর মতিঝিল, মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকায় বোমা ও বোমা-সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও ঘটনাগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলছিলেন, ‘মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের সঙ্গে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে উদ্ধার হওয়া বোমা-সদৃশ বস্তুর কোনো ধরনের সম্পর্ক এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। পুলিশ, সিটিটিসি ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে কাজ করছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’
রাজধানীজুড়ে বোমা আতঙ্ক প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শামসুল হকের দাবি, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ গুজব বা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বলছিলেন, ‘কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ দেখলে তা স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ থানা, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।’




