প্রতিক্রিয়া
ভারসাম্যের বাজেট অর্থসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এই বাজেট হলো ভারসাম্য রক্ষা করার বাজেট। সেটা একদিকে স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে, অন্যদিকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। এটা করার ক্ষেত্রে এই যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সঙ্গে অবকাঠামোর, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য, একইভাবে আপনি সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়িয়ে তাদের দক্ষতা নিশ্চিত করবেন, দুর্নীতি কমাবেন— সেটারও ভারসাম্য। এটা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বাধীন নীতি প্রণয়নের ভারসাম্য। একটা পুরো জিমন্যাস্টিকসের ভেতরে ঢুকছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভারসাম্যের এ জিমন্যাস্টিকস, যেটা উনি এখন করবেন, এর নিচে কোনো ট্রাম্পোলিন নেই। অর্থাৎ যারা ওপরে ট্রাপিজ খেলে, তাদের নিচে একটা নেট থাকে, যাকে বলে সেফটি নেট। পড়লেও যাতে মাটিতে না পড়ে। আমার ভয় হলো, ওনার (অর্থমন্ত্রীর) জন্য তো সেটা আমি দেখিনি চোখে।
ঘোষিত বাজেটে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থের সংস্থান করাই তো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঘাটতি বাজেটের অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি করার চ্যালেঞ্জ। আরও আছে, বৈদেশিক বিনিময়ে বাণিজ্য সচল রাখা, রপ্তানিকে সচল রাখা এবং যে হারে রেমিট্যান্স আসছে সেটা ধরে রাখা। এ ছাড়া আমাদের যেসব বাণিজ্য চুক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আছে সেগুলো অব্যাহত রাখা। এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যে এক-দুই বছর পাব বা পেয়েছি, সেটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। এককথায় উত্তরণকালীন অর্থনীতি গড়ে তোলা। উত্তরণকালীন রাজনীতি আর অর্থনীতি যে একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এটা বুঝতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে বড় বলা যায় না। জাতীয় আয়ের তুলনায় এটা এমন কিছু বড় না। তবে আমাদের অর্থায়নের যে সামর্থ্য, তার তুলনায় বড়। যেহেতু প্রত্যেক সরকারকে আগের সরকারের চেয়ে বড় বাজেট দিতে হবে আর বাস্তবায়ন করবে আগের চেয়ে কম— এ জায়গাটাকে কি বলে নকশা, না খেলা তা আমরা ধরে ফেলেছি। এখন কথা হচ্ছে, ঘোষিত বাজেট নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই, গত বছরের বাজেটটা কতখানি বাস্তবায়ন করেছে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। আপনাদের ও আমাদের পুরো মনোযোগের জায়গাটা ঘোষণা থেকে সরিয়ে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে আসতে হবে।
বাজেটের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের আয় বাড়াতে হবে। যাদের টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) আছে তাদের ১৮ শতাংশ মাত্র কর দেয়। বাকি ৮২ শতাংশকেও করের আওতায় নিয়ে আসাটাই বড় বিষয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা কমাতে হবে। তারা যে লোকজনকে ডেকে নিয়ে হেনস্তা করে, তারপর তাদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়— এসব পরিহারের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।




