ঋণের সঠিক ব্যবহার না হলে বোঝা বাড়বে

ছবি: আগামীর সময়
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে জনতুষ্টির প্রচেষ্টা আছে; কিন্তু অর্থায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা বড় ঘাটতি রাখা হয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণ নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ ঋণ নিলে তা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এমনিতেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। সেখানে আরও বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে। এ ছাড়া এখন সহজ শর্তের ঋণ পাওয়াও সংকুচিত হচ্ছে। ভাবতে হবে, যেকোনো ঋণেরই যেন কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। সেটি করা না গেলে বোঝা বাড়বে, কাজের কাজ কিছু হবে না।
বাজেটে বর্তমান বাস্তবতাকে স্বীকার করা হয়েছে, এটা ভালো। সেই সঙ্গে সরকার সংকট থেকে উত্তরণ করে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়, সেই পথরেখা দিয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্য পূরণের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো— এতে সরকার স্বীকার করেছে যে, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচলিত ধারার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো, সেই পরিবর্তন কীভাবে আনা হবে, এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলা হয়নি।
আমাদের সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বৈষম্য। এটা সম্পদের, আয়ের এবং সুযোগের— সবক্ষেত্রেই বিদ্যমান। বৈষম্য দূর করাকে প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত করতে হবে সরকারকে। এ ছাড়া প্রকৃত অর্থেই বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে উদ্যোক্তা তৈরি হবে। পাশাপাশি সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। সব মিলিয়ে বড় বাজেট ঘোষণাই বড় কথা নয়, বড় বাস্তবায়নের দিকেও বিশেষ নজর থাকতে হবে।
বাজেট দেখে বুঝতে পেরেছি, সরকার আগামী দিনগুলোতে কোথায় যেতে চায়, কী লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। আমার কাছে মনে হয়, বাজেটের মধ্যে যেমন সংকট উত্তরণের পথরেখা নিয়ে চিন্তাভাবনা আছে, তেমনি ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কেও একটা ধারণা আছে। সব মিলিয়ে প্রথম বাজেট হিসেবে বর্তমান সরকারের চিন্তাভাবনার ঝুড়ি খুলে ধরা হয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ। আগামী দিনগুলোতে যেটা করতে হবে সেটা হলো, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার বিকল্প নেই।




