ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বলল এনসিপি

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতাবিবর্জিত এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে উচ্চাভিলাষীও আখ্যা দিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব মন্তব্য করেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আতিক মুজাহিদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।
দলীয়ভাবে আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির মিডিয়া সেলের সদস্য ইয়াসিন আরাফাত।
‘সরকার প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতির কথা বললেও বাস্তবে তার পরিমাণ সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কারণ, প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন’— ব্যাখ্যা করলেন ডা. আতিক।
তার ভাষ্য, অতীতে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। আমার ধারণা, রাজস্ব আদায়ে ২ লাখ কোটিরও বেশি ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সে বিবেচনায় এবারের বাজেট বিবেচিত হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ঘাটতি বাজেট হিসেবে।
‘বাজেটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য এরই মধ্যে বেড়েছে। কিন্তু এসব খাতকে স্থিতিশীল রাখতে বাজেটে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা পর্যাপ্ত বরাদ্দের প্রতিফলন নেই। একইভাবে শিক্ষা খাতকে দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি বলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি’— সমালোচনা অব্যাহত রাখলেন এই সংসদ সদস্য।
সরকারের কার্ড বিতরণ পরিকল্পনাকেও নেতিবাচক বললেন তিনি। তার অভিযোগ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তা কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা তৈরির পরিবর্তে মানুষকে পরনির্ভরশীল করে রাখার ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভর্তুকি ও সহায়তা কর্মসূচিতে দলীয়করণ, অনিয়ম এবং দুর্নীতির সুযোগ রয়ে গেছে। বিএনপি সরকার এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা সারোয়ার তুষারের। তার ক্ষোভ, সরকারের জনতুষ্টিমূলক বাজেটের খেসারত শেষ পর্যন্ত জনগণকেই দিতে হবে।




