আগামীর চোখ
মরেও শান্তি নেই!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
সালাম নেবেন। আশা করি ভালো আছেন। আমি রাজশাহী বিভাগের এক প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ। বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। যেকোনো মুহূর্তে কিছু ঘটে যেতে পারে। গ্রামে বসে মৃত্যুর প্রহর গোনা ভালো সিদ্ধান্ত নয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু রামেকে যেতে ভীষণ ভয় পাচ্ছি। কারণ, পত্রপত্রিকায় দেখলাম রামেকের জরুরি বিভাগের সামনে ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের’ রাজত্ব চলছে।
আপনি তো জানেন, আমাদের রাজশাহী বিভাগে মানসম্মত চিকিৎসার একমাত্র ভরসা রামেক হাসপাতাল। এটি ছাড়া আমাদের মতো রোগীদের যাওয়ার দ্বিতীয় কোনো জায়গা নেই। কিন্তু ধরুন, বাড়ি থেকে কোনোমতে একটি স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রামেকে পৌঁছে গেলাম। তারপর যদি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের চত্বরে ঢুকতেই না পারি এবং অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করি, তাহলে ‘আম ও ছালা’ মানে টাকা ও প্রাণ দুটোই যাবে। লাভের বেলায় শূন্য।
আবার ধরুন, কোনোক্রমে সিন্ডিকেটের সঙ্গে সেটেলমেন্ট করে হাসপাতালে ঢুকলাম এবং ভর্তি হলাম। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন মারা গেলাম। তখন যদি আমার লাশ নিয়ে টানাটানি লাগে, তাহলে তো আরেক বিপদ! অন্তত মরে তো শান্তির প্রত্যাশা করতে পারি নাকি! রামেকে যেতে কতটা ভয় পেলে রোগশয্যা থেকে আপনাকে চিঠি লিখতে হচ্ছে, ভাবুন একবার।
হাসপাতালের বারান্দায় স্ট্রেচারে শুয়ে এ দৃশ্য দেখার মুড থাকবে তখন?
পত্রিকায় পড়লাম, সাধারণ এক যাত্রার ভাড়া যেখানে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা হওয়া উচিত, সেখানে নাকি একজন মৃতের স্বজনের কাছ থেকে দাবি করা হয়েছে সাড়ে নয় হাজার টাকা! বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে চাইলেও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়েছে তাদের।
আপনিই বলুন, হাসপাতালের বারান্দায় স্ট্রেচারে শুয়ে এ দৃশ্য দেখার মুড থাকবে তখন? মরার পর এত ঝামেলা ভালো লাগে বলুন? কবে শান্তিতে কবরস্থ হব, সেই চিন্তাতেই তো অস্থির থাকব! স্বজনরা পড়বে তখন বেকায়দায়। শোক সইবে, নাকি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সঙ্গে তর্ক করবে! এসব ভেবে ভেবে আজও রামেকে যাওয়া হলো না।
অতএব, আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন— আমাকে এবং আমার মতো হাজার হাজার রোগীকে শান্তিতে চিকিৎসা নেওয়ার এবং অন্তত শান্তিতে মরার সুযোগটুকু দিন। আমাদের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাত থেকে বাঁচান।
ইতি
আতঙ্কিত এক রোগী



