আগামীর চোখ
ভাঙা-গড়ার খেলা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জেলা প্রশাসক, নাটোর
সম্প্রতি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম, গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা খরচে তৈরি করা সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য বিজ্ঞান ভবনটি মাত্র তিন বছরের মাথায় পরম সফলতার সঙ্গে ভেঙে সেখানে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বাজেটে চারতলা নতুন ভবন বানানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এই খবরে আমার মতো ঠিকাদাররা যে কী পরিমাণ আহ্লাদিত হয়েছি, বলে বোঝানো যাবে না। যে দেশে অজস্র বিদ্যালয়ের জীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস করে, সেগুলোর কোনো সংস্কারও হয় না; সেখানে কি না নতুন একটি ভবন ভেঙে আবার একটি ভবন! এই না হলে উন্নয়ন! নানারকম পটপরিবর্তনের ফলে আগের জমানার উন্নয়নের গতিধারা যে এখনো স্তব্ধ হয়ে যায়নি, বরং আরও নব নব কলেবরে বেড়ে উঠছে, তা দেখে আমরা আবার আশায় বুক বেঁধেছি।
পুরনো আর ভাঙাচোরা ঘর নয়, আসল উন্নয়ন যে লুকিয়ে আছে মাত্র তিন বছর আগের নতুন ভবন ভাঙার মধ্যে— তা ধানুড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহোদয় ও পরিচালনা কমিটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে দিলেন।
এই ‘নিয়মের’ খেলা আর ‘বৃহত্তর স্বার্থের’ মাজেজা যারা জানার জানেন
এলাকার কিছু দুষ্টু লোক অবশ্য বলছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে না জানিয়ে কাজটা করা ঠিক হয়নি। প্রধান শিক্ষকও কথাটা স্বীকার করে এক নিঃশ্বাসে দুটো কথা বলছেন— সবই হয়েছে ‘নিয়মকানুন মেনে’ এবং ‘স্কুলের বৃহত্তর স্বার্থে’। এই ‘নিয়মকানুনের’ খেলা আর ‘বৃহত্তর স্বার্থের’ মাজেজা যারা জানার জানেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবশ্য বলেই দিয়েছেন, তিনি নিয়মকানুনের ধার ধারেন না। কারও অনুমতিরও তোয়াক্কা করেন না। ভবন ভাঙার পর টেন্ডার ছাড়াই পুরনো রড, ইট ও টিন
খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার যে অভিনব ব্যবসা কৌশল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখিয়েছে, তাতেও আমি সত্যি মুগ্ধ।
এই নতুন কাজগুলো আমাকে দেওয়া হলে আমি কথা দিচ্ছি— প্রশাসন বা শিক্ষা অফিসকে চিঠি পাঠিয়ে কোনো ঝামেলার সৃষ্টি করব না।
কাজ শেষে চুপিচুপি ভবন ভেঙে সব মালামাল বেচে দেব আর সবাইকে বলব যে সব নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে।
অতএব, মহোদয়ের কাছে আকুল আরজি, গুরুদাসপুরের ভাঙা-গড়ার মডেল সারা জেলায় বাস্তবায়ন করুন এবং আমাকে আরও দুটো নতুন ভালো ভবন ভেঙে পুনরায় শতকোটি টাকার মেগা প্রকল্প গড়ার সুযোগ দিয়ে বাধিত করবেন।
ইতি
মেসার্স ভাঙা-গড়া কনস্ট্রাকশনের বঞ্চিত ও হতাশ ঠিকাদার







