আগামীর চোখ
আসামি হাজির

প্রিয়
বগা ভাই,
আমার ছা-পোষা সালাম গ্রহণ করবেন। যে কাণ্ডটা আপনি ঘটালেন, আপনার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার বুকটা এভারেস্টের মতো উঁচু হয়ে গেছে। এ যুগে যখন বাঘা বাঘা অপরাধী পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ শুনে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে দূরদেশে গিয়ে সেলফি তোলে, সেখানে আপনি আক্ষরিক অর্থেই সেলফ-অ্যারেস্ট হয়ে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন!
ভাই, আপনি তো এক জ্যান্ত মিথ! ১৮ মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে, কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব চালানো আপনি যখন খুলশী থানার ওসির দিকে হুংকার ছাড়লেন, তখনই বুঝেছিলাম আপনার কলিজা আর দশটা সাধারণ পাবলিকের মতো নয়। ওসি আপনাকে ধরতে গিয়ে নিজেই বদলি হয়ে গেলেন— এ যেন জাদু! আপনি শুধু ওসি তাড়াননি ভাই, আপনি প্রমাণ করেছেন যে পুলিশ আইনের হাত বাড়াতে পারে, কিন্তু আপনার এলাকা নগর ভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে পুলিশের জিপিএস ট্র্যাকারও খেই হারিয়ে ফেলে!
কিন্তু ভাই, শেষমেশ এটা কী করলেন? যে বগাকে ধরতে পুরো চট্টগ্রাম পুলিশ হিমশিম খেল, ওসির চাকরি নড়বড়ে হয়ে গেল, সেই সিংহপুরুষ কিনা নিজেই পায়ে হেঁটে আদালতে গিয়ে ধরা দিয়ে দিলেন! আপনার এই আকস্মিক ইউটার্ন দেখে তো পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ নিজেদের মাথার চুল ছিঁড়ছে। তারা কতশত সাঁড়াশি অভিযানের ছক আঁকল আর আপনি কিনা সব নাটক ফ্লপ করে দিয়ে একাই স্পটলাইট কেড়ে নিলেন।
হয়তো ভেবেছেন, পুলিশ যেভাবে দিনরাত আপনাকে খুঁজছে, তাতে তাদের প্রেশার, সুগার সব বেড়ে যাচ্ছে। অগত্যা পুলিশের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে আপনি নিজেই ধরা দিলেন। তবে আপনার এই মহৎ আত্মসমর্পণের পর এলাকার চোর-বাটপার মহলে চরম হতাশা নেমে এসেছে। তারা ভাবছিল, আপনি বোধ হয় তাদের নতুন রবিনহুড হতে যাচ্ছেন, যিনি পুলিশ দেখলেই উল্টো তাড়া করবেন। কিন্তু আপনি নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল মেরে সোজা লকআপে গিয়ে হাজির হলেন।
এখন তো কারাগারে বসেই আপনি নিজের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য চালাতে পারবেন। ওখানে অন্তত কেউ এসে বলতে পারবে না— ‘বগা ভাই, পুলিশ আসছে!’ কারণ, পুলিশ তো আপনার ঘরের দরজায় ডিউটি দিচ্ছে। আপনার এই মহান ত্যাগের কথা খুলশী থানার বদলি হওয়া ওসি সাহেব আজীবন মনে রাখবেন।
কারাগারের দিনগুলো আপনার আনন্দময় হোক। যদি প্রয়োজন হয়, ওখানকার জেলার সাহেবকেও একটা মৃদু ধমক দিয়ে বদলি করে দিয়েন। আপনার ক্ষমতার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।
ইতি
আপনার এক মুগ্ধ অনুসারী



