Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
মান্তা শিশুদের শিক্ষায় শামীমের উদ্যোগ
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

রাজনৈতিক অপরাধের বিচারে ফৌজদারি আদালত উপযুক্ত নয়

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬
রাজনৈতিক অপরাধের বিচারে ফৌজদারি আদালত উপযুক্ত নয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT), ঐতিহাসিক অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া, মানবাধিকার এবং আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও সাংবাদিকতা করছেন ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও আইনি বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যান। সবক্ষেত্রেই তার পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী সরকারের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) এখতিয়ার এবং বিচারসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ করেছেন ‘আগামীর সময়’-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার— দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ঘটনা। ঐতিহাসিক বা রাষ্ট্রীয় অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে মূল আইনি সংকটগুলো কোথায়?

ডেভিড বার্গম্যান: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা অত্যন্ত সাম্প্রতিক বা সমসাময়িক। ফলে তদন্তকারীদের কাছে প্রত্যক্ষ প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি ক্লিপ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, যোগাযোগের অডিও ইন্টারসেপ্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তাজা সাক্ষ্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিকথা বা স্মৃতিশক্তি সময়ের ব্যবধানে ক্ষীণ হয়ে যায়নি। ১৯৭১ সালের অপরাধ বিচারে এ ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ হয় একেবারেই ছিল না, আর না হয় খুব দুর্বল ছিল। ৪০ বছর পর ভিডিও বা কল রেকর্ড পাওয়া সম্ভব ছিল না এবং সময়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিশক্তিও ক্ষীণ হয়ে এসেছিল।

শুধু আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোর সঙ্গেই তুলনা করলে চলবে না; দেশের নিজস্ব সাধারণ বিচারব্যবস্থার মানদণ্ডকেও বিবেচনায় নিতে হবে

প্রমাণের এই অসমতা বিচারব্যবস্থার বিশ্বস্ততা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মানে হলো— এ দুটি ভিন্ন সময়ের বিচার প্রক্রিয়া দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। ১৯৭১ সালের মামলাগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজিটাল বা দাপ্তরিক সাক্ষ্যের অভাবে মূল ঝুঁকিটি ছিল প্রমাণের অপ্রতুলতা, যার কারণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ’ (Beyond reasonable doubt) করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের মামলার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এখানে মূল ঝুঁকি হলো পদ্ধতিগত। যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক পদ্ধতি বা আইনগত প্রক্রিয়া আসামিপক্ষকে বিচার কক্ষে এই প্রমাণগুলোকে নিরপেক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করার ও সত্যতা প্রমাণের সুযোগ না দেয় কিংবা যদি যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই পর্যাপ্ত প্রমাণের সুবিধাও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

আগামীর সময়: রুয়ান্ডা (ICTR), সাবেক যুগোস্লাভিয়া (ICTY) কিংবা কম্বোডিয়ার (ECCC) মতো বিশ্বের অন্যান্য বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তুলনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD) পদ্ধতিগত দিক থেকে ও আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড রক্ষায় ঠিক কোন কোন জায়গায় পিছিয়ে রয়েছে?

ডেভিড বার্গম্যান: এ বিষয়টি বোঝার জন্য আমাদের শুধু আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোর সঙ্গেই তুলনা করলে চলবে না; দেশের নিজস্ব সাধারণ বিচারব্যবস্থার মানদণ্ডকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যদি বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস থেকে বহুদূরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সঙ্গে এর ব্যবধান সামান্য কোনো ফারাক নয়— এটি দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির মৌলিক ফারাক। উদাহরণস্বরূপ: এই ট্রাইব্যুনাল আইনে প্রাথমিক সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তারের অবাধ এখতিয়ার দেওয়া রয়েছে; প্রতিরক্ষা পক্ষকে (Defense) প্রসিকিউশনের প্রমাণাদি হস্তান্তরের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় তড়িঘড়ি করে মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ রাখা হয়েছে; বিচার-পূর্ব আটকাদেশ (Pre-trial detention) বা কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কোনো সুযোগ আসামির থাকে না; এবং ‘জুডিশিয়াল নোটিশ’ (Judicial Notice)-এর অবাধ ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল বিচার কক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক ঘটনাকে ‘স্বতঃসিদ্ধ সত্য’ হিসেবে ধরে নিতে পারে।

এই পদ্ধতিগত ঘাটতিগুলোর সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে একটি বড় প্রয়োগগত সংকট। প্রসিকিউটর, আসামিপক্ষের আইনজীবী, এমনকি বেঞ্চে থাকা বিচারকদেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন (International Criminal Law) এবং আন্তর্জাতিক কেস ল (Case Law)-এর ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা বা পর্যাপ্ত গভীর জানাশোনা ছিল না বা এখনো নেই।

যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে কিছু সংশোধনী এনেছে, বিশেষ করে অপরাধের আধুনিক সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে— তবে তারা দুটি অত্যন্ত বড় ভুল করেছে। প্রথমত, বিচারক প্যানেলে অন্তত একজন আন্তর্জাতিক বিচারক (এমনকি তিনজনের বেঞ্চে একজন হলেও) অন্তর্ভুক্ত না করা। দ্বিতীয়ত, প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরে সার্বক্ষণিক কাজের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক আইনজীবী বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ না দেওয়া।

তদুপরি এই ট্রাইব্যুনালটি বাংলাদেশের সাধারণ অভ্যন্তরীণ আদালতের আইনি সুরক্ষার চেয়েও দুর্বল। এটি বাংলাদেশের প্রচলিত সাক্ষ্য আইন (Evidence Act 1872), ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), এমনকি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের কাঠামোর বাইরে গিয়ে কাজ করে। তাই মূল সমস্যাটি কেবল ‘বাংলাদেশ বনাম আন্তর্জাতিক রুয়ান্ডা/যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনাল’ নয়; বরং সমস্যাটি হলো ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বনাম বাংলাদেশের সাধারণ হাইকোর্ট বা ফৌজদারি আদালত।’

আগামীর সময়: ‘অনুপস্থিতিতে বিচার’ (Trial in absentia) এবং আসামিপক্ষের সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমায়। এই সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম কী?

ডেভিড বার্গম্যান: আসামির উপস্থিতিতে বিচার না হলে এবং নিজের পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না থাকলে একটি নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। তাই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে অনুপস্থিতিতে বিচারকে সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে লেবাননের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল (STL) একটি ব্যতিক্রম ছিল, তবে সেখানে দুটি সুরক্ষাকবচ ছিল, যা বাংলাদেশে নেই— ১. আদালতের নাগালের বাইরে থাকলেও আসামি নিজের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারতেন। ২. আইনজীবী নিয়োগ না করলেও ভবিষ্যতে আসামি আদালতে উপস্থিত হলে নতুন করে পুরো বিচার করার (Full Retrial) আইনি অধিকার ছিল।

রাজনৈতিক দলগুলোর অপরাধের বিচারে কেবল ফৌজদারি আদালত ও শাস্তিমূলক আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা পুরোপুরি অপ্রতুল এবং এটি নতুন সংকটের জন্ম দেয়। শুধু আদালতে শাস্তির মাধ্যমে বিচার করতে গেলে এমন অনেক মানুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের ক্ষমতা বা অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র ছিল না; শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কারণে তারা বলির পাঁঠা হয়

বাংলাদেশে দেখা যায়, আদালত নিজেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করে দেয়— যাদের সঙ্গে মূল আসামির কোনো যোগাযোগই থাকে না। কোনো সুরক্ষাকবচ ছাড়া এভাবে অনুপস্থিতিতে বিচার করার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না, বিচার বাকি ক্ষেত্রে যত নিরপেক্ষভাবেই চালানো হোক না কেন— বিচারটির বাকি প্রক্রিয়া দেশে যতই ঢাকঢোল পিটিয়ে পরিচালনা করা হোক না কেন।

আগামীর সময়: বিচার প্রক্রিয়ায় আসামির আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাকে প্রায়ই রাজনৈতিক স্তরে এবং জনমনে ‘অপরাধীকে ছাড় দেওয়া’ বা ‘সহানুভূতি দেখানো’ হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। এই মানসিকতাকে কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত?

ডেভিড বার্গম্যান: এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। আইনগত সুরক্ষা ও যথাযথ প্রক্রিয়া (Due Process) কোনো অপরাধীকে তার শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য তৈরি করা হয়নি। এর মূল উদ্দেশ্য দুটি— ১. কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন ভুল বিচার বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দণ্ডিত না হন, তা নিশ্চিত করা; ২. রাষ্ট্র যেন তার সীমাহীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পিষে ফেলতে না পারে, সে জন্য আইনি লাগাম টানা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো: প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো (বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য দল) সবাই অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ার ভুক্তভোগী হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেছে। কিন্তু নিজেদের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনি সংস্কার না করে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রত্যেকেই সেই একই পুরনো অস্ত্র নিজেদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায়। ফলে রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও অসম্পূর্ণ বিচারের এই বিষাক্ত চক্র চলতেই থাকে।

আগামীর সময়: এই একই ‘ভিক্টরস জাস্টিস’ (বিজয়ীদের বিচার)-এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী কী জরুরি আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কার আনতে হবে?

ডেভিড বার্গম্যান: যদি সত্যি সত্যি আমরা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি দেখতে না চাই, তবে পুরো বিচারিক ও তদন্ত কাঠামোর আমূল সংস্কার করা অপরিহার্য।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনটি মূল সংস্কার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে— ১. নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া: তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রসিকিউশন দলে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে না রেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, পেশাদার ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। ২. আন্তর্জাতিক আইনজীবী ও বিচারক যুক্তকরণ: কেবল দেশীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিচারক প্যানেল এবং প্রসিকিউশন দল— উভয় জায়গায় অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা। ৩. বিচারিক কার্যবিধি পুনর্লিখন: ট্রাইব্যুনালের পুরো বিচারিক কার্যপদ্ধতি (Trial Procedures) নতুন করে প্রণয়ন করা, যাতে আসামি নিজের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জেরা করা এবং আপিল বিভাগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পান।

আগামীর সময়: দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতার কথা চিন্তা করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এর মতো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সংস্থাকে যুক্ত করা বনাম শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা— এ দুটি কৌশলের সুবিধা ও অসুবিধা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ডেভিড বার্গম্যান: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্তত শেখ হাসিনার কেসটি আইসিসিতে (ICC) পাঠাতে পারত। এতে যেমন সুবিধা ছিল, তেমনি কিছু ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতাও ছিল। সুবিধা হলো, আইসিসির তদন্ত ও বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলে। তাই সেখান থেকে পরোয়ানা জারি হলে তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি হতো, যা বাংলাদেশের ঘরোয়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে পাওয়া কঠিন।

তবে এর ব্যবহারিক সংকট হলো— ভারত যদি শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করে, তবে আইসিসির পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কোনো বিচার প্রক্রিয়া চালানো যাবে না। অর্থাৎ প্রক্রিয়াটি প্রতীকীভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তব বিচারে স্থবির হয়ে পড়ত। তা ছাড়া আইসিসির তদন্ত চলাকালীন একই প্রমাণের ভিত্তিতে দেশে চলমান অন্য মামলাগুলোতে আইনি জটিলতা তৈরির ঝুঁকি ছিল।

আমার মতে, সবচেয়ে ভালো হতো একটি সমন্বিত পথ বেছে নেওয়া: শেখ হাসিনার বিচার আইসিসিতে পাঠানো এবং দেশে ট্রাইব্যুনালের আইনে ব্যাপক সংস্কার এনে আন্তর্জাতিক বিচারক ও প্রসিকিউটরদের যুক্ত করে অন্য আসামিদের বিচার বাংলাদেশে সম্পন্ন করা। এতে আইসিসি ছাড়াও দেশের বিচার প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা থাকত।

আগামীর সময়: দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (TRC)’ হলো ট্রানজিশনাল জাস্টিস বা সংকটকালীন বিচারব্যবস্থার একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে তেমন কমিশন গঠন করা কি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও জাতীয় মেরূকরণ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত?

ডেভিড বার্গম্যান: রাজনৈতিক দলগুলোর অপরাধের বিচারে কেবল ফৌজদারি আদালত ও শাস্তিমূলক আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা পুরোপুরি অপ্রতুল এবং এটি নতুন সংকটের জন্ম দেয়। শুধু আদালতে শাস্তির মাধ্যমে বিচার করতে গেলে এমন অনেক মানুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের ক্ষমতা বা অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র ছিল না; শুধু ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কারণে তারা বলির পাঁঠা হয়।

তা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা বড় ধরনের গণঅপরাধের পেছনের জটিল ঐতিহাসিক সত্য ও কাঠামোগত কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য ফৌজদারি আদালত উপযুক্ত জায়গা নয়। ফৌজদারি মামলাগুলোর মাধ্যমে কোনো একটা রাজনৈতিক ঘটনার পুরো সত্য, পটভূমি বা জটিল তথ্য উদ্ঘাটন করা যায় না। এর জন্য এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে শাস্তি বা দণ্ডের পরিবর্তে সত্য প্রকাশ ও সাক্ষ্য গ্রহণকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের আদলে একটি ব্যবস্থা বাংলাদেশে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তবে শর্ত হলো, এই কমিশনকে শুধু আওয়ামী লীগ শাসনামলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; অতীতে সেনাশাসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তা না হলে এই কমিশনটিও অতীতের ট্রাইব্যুনালগুলোর মতোই একপেশে, সিলেক্টিভ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি কমিশনে পরিণত হবে, যা অতীতের মতো জনমনে তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

আগামীর সময়: আপনার দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও আইনি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে কি মনে হয়— বাংলাদেশ কি কখনো এমন একটি বিচারিক কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবে সর্বজন গৃহীত হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো রাজনৈতিক বিতর্কের শিকার হবে না?

ডেভিড বার্গম্যান: বর্তমানে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র হলো— যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা দেশের প্রচলিত অপরাধ বিচার ব্যবস্থাকে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করার বদলে নিজেদের রক্ষা করার প্রতিরক্ষাবলয় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এটি কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো ট্রাইব্যুনালের ত্রুটি নয়; এটি হলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোগত সমস্যা।

ক্ষমতায় বসা প্রতিটি দল এই একই ব্যবস্থার প্রলোভন ও সুবিধার মুখোমুখি হয়। আর সে কারণেই বিরোধী দলে থাকতে যে ব্যবস্থার চরম সমালোচনা তারা করে, ক্ষমতায় গিয়ে সেই একই ব্যবস্থার অবসান না ঘটিয়ে তা নিজের স্বার্থে বজায় রাখে।
যতক্ষণ না কোনো সরকার ক্ষমতায় এসে নিজের ক্ষমতাকে সীমিত করতে রাজি হবে— যেমন বিচার বিভাগ ও প্রসিকিউশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া— ততক্ষণ এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকাকালীন এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ সবারই জানা, কিন্তু নিজের হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি নিশ্চিত করা কেবল আইনি সংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন এক রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়।

আগামীর সময়: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। অনুপস্থিতিতে বিচার বনাম দেশে ফেরার অধিকার— এই জটিলতা কীভাবে নিরসন হতে পারে?

ডেভিড বার্গম্যান: শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরতে চান, তবে বাংলাদেশ সরকারের তা আটকানোর বিশেষ পথ নেই। প্রকৃতপক্ষে, সাজা কার্যকর করার জন্য সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই চায়, তবে রাজনৈতিকভাবে তার প্রত্যাবর্তন বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি দেশে ফিরলে তাকে বন্দি করা হবে এবং সাধারণ প্রক্রিয়ায় আপিল করার সুযোগ থাকবে। তবে বড় জটিলতা তৈরি হবে অন্য জায়গায়। বর্তমান ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয়ে রায় হয়ে গেলে আসামি ফিরে এলে তাকে নতুন করে মূল বিচারিক আদালতে সম্পূর্ণ নতুন বিচার (Fresh Trial) পাওয়ার সুবিধা দেওয়া হয় না। এখানেই আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সঙ্গে তীব্র আইনি বিরোধ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালবিচার প্রক্রিয়ামানবাধিকারআইনি কাঠামোডেভিড বার্গম্যানসাক্ষাৎকার
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    শিবির নেতার কক্ষে দুই শিক্ষার্থী আটক, যা বললেন সর্বমিত্র চাকমা

    শিবির নেতার কক্ষে দুই শিক্ষার্থী আটক, যা বললেন সর্বমিত্র চাকমা

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৭

    ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৮

    পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

    পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪৭

    বড় ভাইয়ের হাতে খুন ছোট ভাই

    বড় ভাইয়ের হাতে খুন ছোট ভাই

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৫

    অনেক দিন পর গানে...

    অনেক দিন পর গানে...

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬

    লন্ডনে প্রথমবার আরবি সংগীত উৎসব

    লন্ডনে প্রথমবার আরবি সংগীত উৎসব

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯

    ইরানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

    ইরানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের জনগণই শায়েস্তা করবে : যুবদল সভাপতি

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের জনগণই শায়েস্তা করবে : যুবদল সভাপতি

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭

    ইউরোপীয় কমিশনের পিআইসি নিবন্ধন পেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

    ইউরোপীয় কমিশনের পিআইসি নিবন্ধন পেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৪

    আলুচাষিদের জন্য কৃষক কার্ড চায় বিসিএসএ

    আলুচাষিদের জন্য কৃষক কার্ড চায় বিসিএসএ

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১

    অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে

    অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৬

    হাসপাতালে কাতরাচ্ছে দুই শিশু, জানে না মারা গেছে মা

    হাসপাতালে কাতরাচ্ছে দুই শিশু, জানে না মারা গেছে মা

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১২

    ভিটামিন ডি-এর গুরুত্ব

    ভিটামিন ডি-এর গুরুত্ব

    ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮

    advertiseadvertise