সাক্ষাৎকার
নতুন প্রকল্পে সতর্ক সরকার

বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার দিতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট। এর খুঁটিনাটি নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির সঙ্গে কথা বলেছেন আগামীর সময়-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হামিদ-উজ-জামান
আগামীর সময়: কেমন বাজেট হচ্ছে এবার?
জোনায়েদ সাকি: একটি ভালো বাজেট তৈরির চেষ্টা চলছে। যেখানে জনগণের প্রকৃত চাহিদা এবং বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বাজেট তো পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট। আমাদের চেষ্টা থাকবে, এই ইনভেস্টমেন্ট থেকে যেন সর্বোচ্চ আউটকাম আসে।
আগামীর সময়: বাজেট তৈরিতে গুরুত্বের জায়গাগুলো একটু বলবেন?
জোনায়েদ সাকি: আগামী অর্থবছরের বাজেট একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে তৈরি করা হচ্ছে। এখানে অনেক চিন্তাভাবনা করেই কাজ করতে হবে। এই বাজেট তৈরিতে চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা, দ্বিতীয়ত, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান তৈরি এবং চতুর্থত, উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করা। এ ছাড়া অন্য অনেক বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা হচ্ছে।
আগামীর সময়: এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন খাতগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে?
জোনায়েদ সাকি: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, যা জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, সৃষ্টিশীল শিল্প স্থাপন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, সুশীল অর্থনীতি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য এডিপি হলো আর্থিক খাতভিত্তিক অন্যতম দলিল। এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এরপরই রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে।
আগামীর সময়: প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিষয়ে কিছু বলুন।
জোনায়েদ সাকি: এডিপির আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলো হলো পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট। এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এডিপি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে যেভাবে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার কোনো সমন্বয় ছিল না। কিন্তু এখন পঞ্চবার্ষিক ও কাঠামোগত পরিকল্পনা এবং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় এমনভাবে প্রকল্পগুলো নেওয়া হবে, যাতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। আমরা চেষ্টা করছি সময়মতো, সাশ্রয়ীভাবে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে।
আগামীর সময়: পর্যালোচনার নামে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না?
জোনায়েদ সাকি: না, তেমনটি নয়। চলমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আর এটি যাতে দ্রুত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। সেসঙ্গে নতুন প্রকল্প গ্রহণে বিশেষ সতর্কতা আছে। যেনতেন প্রকল্প নিলে তো হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের দুর্বলতা-দুর্নীতির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি আছে। এক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি ভেল্যু অব মানি, রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে।
আগামীর সময়: বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সতর্কতা আছে কি না?
জোনায়েদ সাকি: বৈদেশিক ঋণ আমাদের লাগবে। তাই বলে যেনতেন প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হবে না। ঋণ নিয়ে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, সেগুলো থেকে যাতে সর্বোচ্চ রিটার্ন পাওয়া যায়। বৈদেশিক ঋণনির্ভর চলমান প্রকল্পগুলোয় আমরা দেখছি, যাতে অর্থের অপচয় না হয়। কেননা, এরই মধ্যে এসব প্রকল্পে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। আর নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পর্যালোচনা করেই বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে।
আগামীর সময়: পে-স্কেল নিয়ে বাজেটে কিছু থাকছে কি?
জোনায়েদ সাকি: এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমি কিছু বলছি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পে-স্কেলের বিষয়ে পজিটিভ আছেন। তবে দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।
আগামীর সময়: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
জোনায়েদ সাকি: আপনাকে এবং আগামীর সময় পরিবারকেও অনেক ধন্যবাদ।




