Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
বেলালের ‘মানবতার স্কুল’
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

পশ্চিমাদের নীতিগত নেতৃত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে

  • আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, রেড সি ও মক্কা চুক্তিকেন্দ্রিক ভূরাজনীতি, মাল্টিপোলার পরাশক্তি বিন্যাস এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন মাত্রা নিয়ে আগামীর সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫
পশ্চিমাদের নীতিগত নেতৃত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

আগামীর সময়: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একটি জটিল নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত, অন্যদিকে লোহিত সাগরের (রেড সি) জলসীমার নিরাপত্তা শঙ্কা। সামগ্রিক এই চিত্রকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পুরনো আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ আটকে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি।

যখন থেকে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন পশ্চিমাসহ সৌদি আরব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রাথমিক হিসাবনিকাশ ছিল যে হরমুজ যদি কোনো কারণে স্থবির বা বন্ধও হয়ে যায়, তবুও তারা পাশ কাটিয়ে লোহিত সাগরের (রেড সি) বাণিজ্যিক নৌপথ ব্যবহার করে তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক পরিকল্পনাগুলো অনায়াসে বাস্তবায়ন করতে পারবে। কিন্তু সেই হিসাবনিকাশ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতিদের যে শক্তিশালী ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রভাব তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিতে মাসখানেক আগে একটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোট বা অ্যালায়েন্স গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজও যেহেতু সেই আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে, তাই শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে এই সুরক্ষাবলয়ে যুক্ত থাকা হয়তো আমাদের জাহাজের নিরাপত্তার জন্য ভালো হবে।

সৌদি আরব শুরুতে একধরনের আত্মবিশ্বাস দেখানোর চেষ্টা করেছিল যে তারা এককভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দিন দিন আরও বেশি জটিল রূপ ধারণ করছে।

আগামীর সময়: হুতিদের আক্রমণের মুখে মক্কা প্যাক্ট বা চুক্তি কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল না? মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই চুক্তির কার্যকারিতা বা ভবিষ্যৎ আসলে কী?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত নির্দিষ্ট কিছু ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত উদ্দেশ্য সামনে রেখে করা হয়েছিল বলে মনে হয়। কিন্তু চুক্তি ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ে হুতিদের হামলার জবাবে বা সুরক্ষায় এই জোটকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যদি এটি আসলেই একটি বৃহৎ সামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক সমঝোতা হতো, তবে আমরা দেখতে পেতাম যে তুরস্ক বা পাকিস্তানের মতো বড় আঞ্চলিক ও সামরিক শক্তিগুলো এরই মধ্যে দৃশ্যমান ও বড় আকারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কার্যত আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সম্মিলিত রেসপন্স বা সামরিক তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি না।

এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই একধরনের বড় প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে— আসলে কী উদ্দেশ্যে বা কী স্বার্থে তৎকালীন পরিস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

অনেকে ধারণা করেছিলেন, সিরিয়া ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির পথ রুদ্ধ করতেই হয়তো এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। কারণ, ইসরায়েলের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তুরস্কও তাদের কৌশলগত টার্গেট হতে পারে। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে যে একধরনের পরোক্ষ বা ‘প্রক্সি ওয়ার’ চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই যুক্তি সামনে এসেছিল।

তবে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখতে হবে, এই তথাকথিত মক্কা প্যাক্ট বা পিরিয়ডিক অ্যালায়েন্সের শরিকরা আদৌ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, নাকি চুক্তিটি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আরও কতগুলো জটিল সুতা জড়ো হয়ে আছে।

আগামীর সময়: দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে হুতিদের সঙ্গে আলোচনার চ্যানেল খোলা রাখছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াবেন না; অন্যদিকে আমেরিকা আবার ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে সৌদির কাছেও পৌঁছাতে পারে। এই বহুমুখী চালকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: যুদ্ধের সময় মিডিয়া ও কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের খবর আসতে থাকে এবং এর সব তথ্য শতভাগ নির্ভুল কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। যুদ্ধের প্রাথমিক খবরগুলোর মধ্যে প্রচুর মনস্তাত্ত্বিক উপাদান থাকে। তবে ইয়েমেন ও হুতিদের সঙ্গে সৌদির আক্রমণ ও পাল্টাপাল্টি তো আজকের গল্প নয়।

কানাডায় আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক হতাশা দেখেছি, কিন্তু যখন আমি এশিয়ায় ফিরে এলাম— সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা জাকার্তার মতো শহরগুলোতে আমি দেখেছি এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উদ্দীপনা, কাঠামোগত অগ্রগতি এবং মানুষের ভেতরে নতুন ভবিষ্যতের এক প্রচণ্ড উৎসাহ! সুতরাং ‘পুরো পৃথিবী এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে’— এই ন্যারেটিভটি মূলত পশ্চিমা বিশ্বের নিজস্ব সংকট থেকে উদ্ভূত একটি কৃত্রিম বয়ান

আমাদের জন্য মূল উদ্বেগের বিষয় হলো— এই সংঘাত যেন নতুন করে কোনো বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়। কারণ, এমনিতেই হরমুজ প্রণালির জটিলতায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। এখন যদি লোহিত সাগরের বিকল্প ট্রেড রুটও দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ বা ব্যাহত হয়ে যায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ চড়া মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে আমাদের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী উদীয়মান অর্থনীতির ওপর চরম নেতিবাচক চাপ পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাবও এখানে যুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তাদের বর্তমান প্রশাসন চাইবে না মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে। নতুন করে তারা কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না, আবার চলমান সংঘাতকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা সদিচ্ছা কোনোটিই তাদের নেই। ফলে এই অনিশ্চয়তা আমাদের আরও কিছুদিন সহ্য করতেই হবে।

আগামীর সময়: এই জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আপনি কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন? একদিকে রেড সি অ্যালায়েন্সে যোগদান, অন্যদিকে মক্কা প্যাক নিয়ে বেশ গরম আলোচনা; আবার ব্রিকসে গেল না। সব মিলিয়ে কী বার্তা পাচ্ছেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: বাংলাদেশে মক্কা চুক্তিতে যোগদান করা নিয়ে যে ধরনের উন্মাদনা তৈরি করা হয়েছিল, তার পেছনে মূলত ছিল দেশের ভেতরের কিছু মানুষের সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার মানসিকতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় একটি কথা স্পষ্টভাবে বোঝা দরকার— বাংলাদেশকে তো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো আমন্ত্রণই জানায়নি! আমি যদি এখন হঠাৎ জনসমক্ষে ঘোষণা দিই— ‘আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা চ্যান্সেলর পদের দায়িত্ব নেব না’, অথচ অক্সফোর্ড আমাকে কোনোদিন সেই পদের জন্য আমন্ত্রণই জানায়নি! এটি তো ঠিক সেই ধরনের হাস্যকর কূটনৈতিক প্রচারণায় রূপ নিয়েছিল।

যদি বিশ্ব জুড়ে একটি বৃহৎ মুসলিম অ্যালায়েন্স তৈরি হতেই হয়, তবে সেখানে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো বিশালাকার ও অত্যন্ত উন্নত অর্থনৈতিক সক্ষমতার দেশগুলো রয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে কোনো বড় লাইবিলিটি বা সামরিক দায়িত্ব নিয়ে কেউ হুট করে এমন জায়গায় বসাবে—এসব চিন্তা করাটাই অপনীতি, কূটচাল।

মধ্যপ্রাচ্যে তেলের রাজনীতি, পেট্রোডলারের মারপ্যাঁচ, রাজতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষা, শিয়া-সুন্নির শত বছরের মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক দ্বন্দ্ব এবং উগ্র ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদ একসঙ্গে গিজগিজ করছে, সেই চরম বিষাক্ত ও জটিল কাঠামোর ভেতর আমাদের মতো দেশের অহেতুক ঢুকে পড়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। সেখানে আমাদের যুক্ত হওয়া মানেই নিজের কাঁধে অন্যের চাপিয়ে দেওয়া দায় নেওয়া।

নীতিনির্ধারক বা পলিসি মেকাররা মানসিকভাবে এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে পৃথিবীটা সত্যি সত্যি একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী পরাশক্তিভিত্তিক যুগে প্রবেশ করেছে!

আমাদের প্রয়োজন হলো একটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ দল বা সুনির্দিষ্ট ডিপ্লোম্যাটিক পলিসি তৈরি করা এবং নিজস্ব গোয়েন্দা ও তথ্য বিশ্লেষণ সক্ষমতা (ইন্টেলিজেন্স কেপাবিলিটি) বহু গুণ বৃদ্ধি করা। গ্রাউন্ড লেভেলে বা বিশ্ব রাজনীতিতে মূলত কী ঘটছে, তা যেন আমরা অন্য কোনো দেশের প্রোপাগান্ডা বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চশমা দিয়ে না দেখে সরাসরি নিজস্ব মূল্যায়নে বুঝতে পারি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিদেশি তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে আছি, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ধরনের দুর্বলতা।

আগামীর সময়: একদিকে ইউক্রেন জটিলতায় ইউরোপ, অন্যদিকে ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বদলে যাওয়া হিসাবনিকাশ। এই বহুমুখী জটিলতার আড়ালে ধারাবাহিকভাবে গাজাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া অব্যাহত আছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ধারণাগুলো হাস্যকর হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার স্বার্থ দেখতে দেখতে পশ্চিমা বিশ্বের দেউলিয়াপনা আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। এই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো ফোরামগুলোর ভূমিকা কীভাবে দেখেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর বিশ্বশান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জাতিসংঘ যে চার্টার বা আন্তর্জাতিক রুলস-বেসড অর্ডার তৈরি করেছিল, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই চ্যাপ্টারের প্রতি চীন, রাশিয়া বা ভারতের মতো দেশের যতটুকু না আনুষঙ্গিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তা বিন্দুমাত্র নেই। আমেরিকা তো একটার পর একটা জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে, তাদের ফান্ড কাট করেছে এবং সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্য তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে।

আজকে গাজায় যা ঘটছে, তা সাধারণ কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান নয়; এটি সম্পূর্ণ গণহত্যা (জেনোসাইড)। আর এই নির্মম গণহত্যার সঙ্গে তথাকথিত ‘রুলস-বেসড আন্তর্জাতিক অর্ডার’-এর মূল রক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো সরাসরি অংশীদার বা সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং আন্তর্জাতিক আইন বা নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় পশ্চিমারা নীতিগত নেতৃত্ব দেবে— এ ধারণার দিন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ কারণেই উদীয়মান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ব্রিকস বা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আগামীর সময়: বাংলাদেশ যে ব্রিকসে গেল না, এ নিয়ে আপনার কী বলার আছে?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: আমি বরাবরই বলেছি— বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। এখানে আমাদের ডিপ্লোম্যাটদের একটি জিনিস বুঝতে হবে, দ্বিপক্ষীয় সফর (Bilateral Visit) এবং বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনের মতো বিশ্বমঞ্চকে একই পাল্লায় মাপা মারাত্মক ভুল।

দ্বিপক্ষীয় সফর সফল করতে হলে টেবিলে সুনির্দিষ্ট লেনদেন ও অর্জন (Outcome) থাকতে হয়। যদি ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সফরের কথা ধরি, সেখানে আমাদের তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রকল্প, গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা, সীমান্তে প্রতিদিনের হত্যা বন্ধ করা এবং অন্যান্য অমীমাংসিত রাজনৈতিক সমস্যার বিষয়ে চূড়ান্ত বা ইতিবাচক ফল নিয়ে আগাম হোমওয়ার্ক করতে হয়। যদি হোমওয়ার্ক ছাড়া বা নিশ্চিত ফল ছাড়া শুধু দ্বিপক্ষীয় সফর করা হয়, তবে জনগণের কাছে প্রশ্ন ওঠে। সেই বিচারে দ্বিপক্ষীয় সফর কিছুটা ভেবেচিন্তে স্থগিত বা সুনির্দিষ্ট করা সঠিক যুক্তি হতে পারে।

কিন্তু ব্রিকস তো কোনো একক দেশের বা কেবল ভারতের নিজস্ব সংগঠন নয়! ব্রিকস একটি বহুপক্ষীয় বিশ্ব অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। ইন্দোনেশিয়া গেছে, থাইল্যান্ড মেম্বারশিপের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজে উপস্থিত ছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিগুলো সেখানে ছিল। এই দেশগুলোর সঙ্গে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নেই? অবশ্যই আছে! তারা যদি নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে ব্রিকসে স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নিতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে?

ব্রিকস সম্মেলনে গেলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর বাংলাদেশের ওপর থাকত, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক ছাদের নিচে দেখা হতো। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও এফডিআই (বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ) যখন টানা চাপের মুখে রয়েছে, তখন এ ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা নিজেদেরই ক্ষতি করছি।

আগামীর সময়: একজন অভিজ্ঞ অ্যাকাডেমিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: এ মুহূর্তে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মূল এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক দায়িত্ব কী? প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো, দেশের ভেতরে নতুন বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, বৃহৎ আকারের কর্মসংস্থান খাত তৈরি করা এবং দেশের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন করা।

কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতার ভেতর দাঁড়িয়ে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে যদি সুনির্দিষ্ট ও দৃঢ় ভারসাম্য না থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। বিদেশি ব্যবসায়ীরা যখন দেখছেন যে বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক বলয়ে বা অর্থনৈতিক ফোরামে নিজের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে পারছে না বা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির দোলাচলে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে, তখন দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীই কিন্তু চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

একটি দেশ যদি তার বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক কাঠামোর কৌশলগত গতিপথ স্পষ্ট করতে না পারে, তবে জনগণের ভেতরে অসন্তোষ ও দুশ্চিন্তা গাণিতিক হারে বাড়তেই থাকবে। আমি সবসময় একটি কথা বিশ্বাস করি— বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে হয় এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হয়, তবে আমাদের নীতিনির্ধারক ও অভিজাত শ্রেণির (এলিট) দুটি পা-ই বাংলাদেশের মাটিতে দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে। কারণ, নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ যখন দেশের বাইরে বিভক্ত থাকে, তখন অন্য শক্তিশালী দেশগুলো আমাদের সেই মানসিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে।

আগামীর সময়: বিশ্বরাজনীতিতে যে ‘মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ বা বহু-মেরু বিশ্বব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে নতুন কোনো শক্ত আন্তর্জাতিক অবকাঠামো বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে না। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার অস্থিরতা ও যন্ত্রণা আমাদের আরও দীর্ঘকাল সহ্য করতে হবে?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: মূল সমস্যাটি হলো, নীতিনির্ধারক বা পলিসি মেকাররা মানসিকভাবে এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে পৃথিবীটা সত্যি সত্যি একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী পরাশক্তিভিত্তিক যুগে প্রবেশ করেছে! তারা মনে মনে ধরে রেখেছেন যে বিশ্ব আজও আগের মতো পুরোপুরি এক-মেরুভিত্তিক (ইউনিপোলার) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যই চিরন্তন।

এই মানসিকতার পেছনে বড় একটি কারণ হলো আমাদের প্রথাগত বাণিজ্যিক নির্ভরশীলতা। নীতিনির্ধারকরা ভয় পান যে এক-মেরু বিশ্বব্যবস্থার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ব্লকে একটু ঝুঁকলেই বুঝি সেই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির আসল সত্য হলো— ইউনিপোলার বিশ্বকাঠামো এরই মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমলাতন্ত্র ও কূটনৈতিক শিক্ষায় যেসব প্রথাগত কাঠামো শেখানো হয়েছে, তা কেবল ইউনিপোলার অথবা বাইপোলার (দ্বি-মেরু) রাজনীতির পাঠ শেখায়। বিশ্বের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বহুমুখী মেরূকরণকে অনুধাবন করার মতো প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক কাঠামোতে চরম অভাব রয়েছে। আমরা এখনো পুরনো যুগের চশমা দিয়ে নতুন বিশ্বের সমীকরণ বোঝার চেষ্টা করছি।

আগামীর সময়: একদিকে পশ্চিমা মিডিয়া বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও নৈরাশ্যের কথা বলছে, অন্যদিকে আপনার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী চিত্রটি আসলে কেমন?

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ: এই জায়গাটিতে বিভ্রান্তি সবচেয়ে বেশি। আমি সম্প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশ সফর করেছি— থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর ঠিক এক মাস আগে আমি কানাডায় ছিলাম। কানাডায় আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক হতাশা দেখেছি, কিন্তু যখন আমি এশিয়ায় ফিরে এলাম— সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা জাকার্তার মতো শহরগুলোতে আমি দেখেছি এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উদ্দীপনা, কাঠামোগত অগ্রগতি এবং মানুষের ভেতরে নতুন ভবিষ্যতের এক প্রচণ্ড উৎসাহ!

সুতরাং ‘পুরো পৃথিবী এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে’— এই ন্যারেটিভটি মূলত পশ্চিমা বিশ্বের নিজস্ব সংকট থেকে উদ্ভূত একটি কৃত্রিম বয়ান। আমাদের দেশের অভিজাত বা এলিট শ্রেণির মানসিকতাও এই পশ্চিমামুখী প্রোপাগান্ডা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত।

সাক্ষাৎকারড. ইমতিয়াজ আহমেদরাজনীতিমধ্যপ্রাচ্যসংকট
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    একদিনে রাজধানীর ৮ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত রিকশাচালক

    একদিনে রাজধানীর ৮ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত রিকশাচালক

    কোটি টাকার বর্জ্য অপসারণের গাড়ি গ্যারেজে কঙ্কাল

    কোটি টাকার বর্জ্য অপসারণের গাড়ি গ্যারেজে কঙ্কাল

    ৬ মাসের সংসার শেষ ৭০ হাজার টাকার বিরোধে

    ৬ মাসের সংসার শেষ ৭০ হাজার টাকার বিরোধে

    মক্কায় আলোচিত যত হামলা

    মক্কায় আলোচিত যত হামলা

    প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন নাহিদ

    প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন নাহিদ

    দেশে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হলে দায় জামায়াত-এনসিপির

    দেশে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হলে দায় জামায়াত-এনসিপির

    যে দেশ ছাড়েন, চাইলে আবার ঢুকতেও পারেন: রুমিন ফারহানা

    যে দেশ ছাড়েন, চাইলে আবার ঢুকতেও পারেন: রুমিন ফারহানা

    ডেঙ্গু থেকে সতর্ক হোন

    ডেঙ্গু থেকে সতর্ক হোন

    পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হচ্ছে আজ

    পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হচ্ছে আজ

    ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে পাভেল বাদ!

    ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে পাভেল বাদ!

    অন্যদের লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

    অন্যদের লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

    ফুটপাত ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে সেই গোলাপি বেগম

    ফুটপাত ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে সেই গোলাপি বেগম

    তেজগাঁও মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩

    তেজগাঁও মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩

    পরীক্ষায় নকল করায় ছাত্রদল ও হল সংসদ নেতাকে শাস্তি দিল ঢাবি

    পরীক্ষায় নকল করায় ছাত্রদল ও হল সংসদ নেতাকে শাস্তি দিল ঢাবি

    চার বছর পর গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ

    চার বছর পর গড়াইয়ের বুকে নৌকাবাইচ