আগামীর চোখ
সাধের লাউ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
পরিচালক, বাজার নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
আমি আপনার বাজারের এক নিয়মিত এবং বর্তমানে চরম বিভ্রান্ত ক্রেতা। সম্প্রতি চোখ কপালে ওঠার মতো খবরে জানতে পারলাম, দেশের কোনো কোনো বাজারে চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১ টাকায় এবং এক কেজি পেঁপের দাম নেমে এসেছে ৩ টাকায়! মনে হচ্ছে, দেশের সমস্ত মূল্যস্ফীতি আর সিন্ডিকেটকে একহাত দেখে নেওয়ার জন্য লাউ আর পেঁপে জোট বেঁধে বাজারে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলেছে!
আপনি হয়তো ভাবছেন, যেখানে এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা, একটা কাঁচা মরিচের দাম ২ টাকা, সেখানে মাত্র ২৫ পয়সায় একটা আস্ত লাউ! ক্রেতার জন্য এর চেয়ে বড় সুদিন আর কী হতে পারে?
তবে মহাশয়, এই চরম খুশির খবরে আমার মতো সাধারণ ক্রেতার কিছু গুরুতর সমস্যাও হচ্ছে। বাজারে গিয়ে যখন ২৫ পয়সা দিয়ে একটা লাউ কিনি, তখন মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করতে লজ্জা লাগে। আমাদের দেশে তো এখন ১ টাকার নিচে কোনো কয়েনই চালু নেই। ফলে একটা লাউ কিনতে গিয়ে আটটা লাউ একসঙ্গে কিনতে হচ্ছে। এই বিশাল আটটা লাউ বহন করার জন্য যে প্লাস্টিকের ব্যাগ কিনতে হচ্ছে, তার দাম ৫ টাকা! তারপর ধরেন, ৩ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি পেঁপে কিনলাম ১৫ টাকা দিয়ে। এই বিপুল সবজিবহর বাড়ি বয়ে আনার জন্য রিকশাচালক ভাড়া চাইলেন ৫০ টাকা! আগে তো ৫০০ টাকায় সামান্য কিছু সবজি কিনে হাঁটতে হাঁটতেই বাসায় ফিরতাম। এখন লাউ-পেঁপের এই সস্তায় আমাদের যাতায়াত খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে অতি শিগগির ‘সবজি পরিবহন লোন’ নিতে হবে।
বাজারে গিয়ে যখন ২৫ পয়সা দিয়ে একটা লাউ কিনি, তখন মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করতে লজ্জা লাগে
আরও একটা ভেজাল লেগেছে। লাউ ও পেঁপে এখন জাতীয় আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাম কম হওয়ার কারণে গিন্নিরা এখন সকালের নাশতায় লাউয়ের ভাজি, দুপুরে লাউয়ের তরকারি, বিকালে পেঁপের হালুয়া আর রাতে লাউ-পেঁপের মিক্সড স্যুপ খেতে দিচ্ছেন। এভাবে কিছুদিন চললে আমাদের শরীরের রঙও হয়তো সবুজ হতে শুরু করবে।
অতএব মহোদয়, এই ‘ভয়াবহ’ সস্তায় সবজি বিক্রির সিন্ডিকেটকে দ্রুত দমন করুন। দয়া করে লাউ-পেঁপের দাম একটু বাড়ান। প্রয়োজনে প্রতি পিস অন্তত আশি টাকা এবং পেঁপের কেজি একশ টাকা করার জন্য মোবাইল কোর্ট নামানো হোক।
দেশের মধ্যস্বত্বভোগী বা ‘আড়তদার’ ভাইদের কী হবে, সেটাও একটু ভাবুন। তাদের প্রাডো গাড়ির তেলের টাকা কোথা থেকে আসবে? তাদের দুবাই ট্যুরের খরচ কে জোগাবে? সুতরাং বাজারকে তার নিজস্ব চড়া গতিতে চলতে দিন। আমাদের প্রতিদিনের দীর্ঘশ্বাস আর বাজারের আগুনের যে মধুর সম্পর্ক, তা এই ১ টাকায় চার লাউ দিয়ে নষ্ট করবেন না। আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে অভ্যস্ত; সস্তায় পুষ্টি নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি আমাদের নেই।
ইতি
আপনার বাজারের এক ‘সবুজ’ অবুঝ ক্রেতা



