আগামীর চোখ
মাছ নয় কিনছেন মাছের স্মৃতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বরিশাল
আমি বিলের মাছ। প্রকৃতির জলাশয়ে আমার জন্ম, কাদামাটিতে বেড়ে ওঠা। কৃত্রিম খাদ্যের মাপে আমার শৈশব কাটেনি। জল, মাটি আর প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে আমার শরীরের রঙ তৈরি হয়েছে। অথচ আজ বাজারে আমার নামে যে মাছ বিক্রি হচ্ছে, তাদের অনেকের জন্ম খামারে। প্রকৃতি তাদের যে পরিচয় দেয়নি, ব্যবসায়ীরা তা দিতে চান— আমার নাম ধার করে, আমার শরীরের অনুকরণে, আর দেয়ালের রঙ মাখিয়ে।
আমার আপত্তি মাছের সঙ্গে মাছের প্রতিযোগিতায় নয়। খামারে জন্মানো মাছেরও বাজারে জায়গা আছে। আপত্তি এই যে, আমাকে মিথ্যা বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে। চাষের মাছকে বিলের মাছ সাজিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা শুধু ক্রেতার পকেটে হাত দিচ্ছেন না, প্রকৃতির নামেও জালিয়াতি করছেন। তার ওপর আমার স্বাভাবিক রূপের অনুকরণে মাছের গায়ে মাখানো হচ্ছে দেয়ালের প্লাস্টিক পেইন্ট!
শুনেছি, এই রঙ নাকি মাছকে চকচকে করে। বিক্রেতাদের যুক্তি, চকচকে না হলে ক্রেতা কিনবেন না। আহা, কী বিচক্ষণ বাজারদর্শন! সত্যকে যত মলিন করা যায়, মিথ্যাকে তত উজ্জ্বল করে তুলতে হয়। মাছের শরীরে রঙ, মুখে বিলের গল্প, আর দামে প্রকৃতির প্রিমিয়াম। ক্রেতা মাছ নয়, কিনছেন প্রকৃতির স্মৃতি; আর সেই স্মৃতির ভেতর গুঁজে দেওয়া হচ্ছে প্রতারণা।
আপনারা বলেছেন বিষয়টি দেখবেন। এই ‘দেখা’ শব্দটির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা জন্মেছে
মহোদয়, মানুষের পাতে গিয়ে এই রঙের পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন আপনাদেরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পেটের পীড়া থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি— এমন আশঙ্কার কথা যখন উচ্চারিত হচ্ছে, তখনো যদি বাজারে এই কারবার নির্বিঘ্নে চলে, তবে নিরাপদ খাদ্যের সংজ্ঞাটি এবার নতুন করে লেখা দরকার।
আপনারা বলেছেন বিষয়টি দেখবেন। এই ‘দেখা’ শব্দটির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা জন্মেছে। বাজারে মাছ দেখা যায়, মাছে রঙ দেখা যায়, প্রতারণাও প্রকাশ্যে দেখা যায়— শুধু দেখা যায় না প্রতিকার। অপরাধীরা প্রতিদিন ড্রামভর্তি মাছ নিয়ে আসে, রঙ মাখায়, বিলের পরিচয়ে বিক্রি করে। আপনাদের আশ্বাস ফাইলের ভেতর নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে।
আমি বিলের মাছ। আমার নাম ব্যবহার করে মুনাফা করুন; কিন্তু আমার নামে বিষের ব্যবসা চলুক, সেই অনুমতিও দিইনি। রঙ মাখানো মাছের গা থেকে বিলের পরিচয় মুছে ফেলার আগে অপরাধীদের ব্যবসা থেকে দায়মুক্তির রঙটি মুছে দিন।
ইতি
বিলের মাছ



