ওয়ান স্টপ সার্ভিস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
প্রিয় ‘সরষের ভেতরের ভূত’ ভাই
শুভেচ্ছা নেবেন। আপনাদের এই অনন্য ও যুগান্তকারী কীর্তিতে প্রথমেই শতকোটি স্যালুট! আমরা সাধারণ পাবলিকরা জানতাম, পুলিশ ভাইদের কাজ হলো চোর-ডাকাত আর মাদক কারবারি ধরা। কিন্তু আপনারা যেভাবে ‘মাদক-সংশ্লিষ্টতা’র জেরে মাত্র দুই মাসে একেবারে ২৭ জন মিলে কারাগারের টিকিট কেটেছেন, তা দেখে আমাদের চোখ ছানাবড়া! কথায় আছে না, ‘সরষের ভেতরেই যদি ভূত থাকে, তবে ভূত তাড়াবে কে?’ আপনারা তো সেই প্রবাদকে একেবারে জীবন্ত রূপ দিলেন। মাদক কারবারিদের সঙ্গে আপনাদের এই ‘ব্যবসায়িক’ সুসম্পর্ক দেখে আমাদের পাড়ার মাদকসম্রাট মজনু মিয়াও আজ চোখের জল ফেলছে আর ভাবছে— যাদের ভয়ে এতদিন খাটের তলায় লুকিয়ে থাকত, তারা নাকি তারই ব্যবসার পার্টনার! আসলে আমরা বড্ড সংকীর্ণমনা। আমরা বিষয়টাকে দেখছি ‘অপরাধ’ হিসেবে। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে পুলিশ ভাইদের এই ত্যাগের তুলনা হয় না। তারা শুধু সমাজ থেকে মাদক উদ্ধারই করেননি; সেই মাদক যাতে নষ্ট না হয়, তার ‘সঠিক পুনর্বাসন’ ও ‘বাণিজ্যিক বণ্টন’ নিশ্চিত করতে নিজেরা কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিপণনের দায়িত্ব।
সাধারণত দেখা যায়, কোনো ব্যবসার ডিলার বা সাপ্লায়ার ধরতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু আমাদের এই ২৭ জন বীর একদম ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছিলেন। তারা নিজেরাই পুলিশ, নিজেরাই ডিলার, আবার আইন প্রয়োগের সময় নিজেরাই নিজেদের ‘কাস্টমার’ বা আসামি! এমন বহুমুখী প্রতিভা পৃথিবীর আর কোনো দেশের পুলিশ বাহিনীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
তারা নিজেরাই পুলিশ, নিজেরাই ডিলার, আইন প্রয়োগের সময় নিজেরাই নিজেদের ‘কাস্টমার’ বা আসামি
আমরা আশাবাদী, কারাগারের রিসোর্টে গিয়েও এই ২৭ জনের দায়িত্ব শেষ হবে না। জেলের ভেতর যে কয়েদিরা এতদিন মাদকের অভাবে ‘শুকিয়ে’ যাচ্ছিল, সেখানে গিয়ে তারা ভেতরের সাপ্লাই চেইনটাও একদম চাঙ্গা করে তুলবেন। জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসে তারা এখন নতুন রিক্রুটমেন্ট ও ট্রেনিং সেশন চালাতে পারবেন।
তবে একটা দুঃখ রয়েই যায়। মাত্র দুই মাসে ২৭ জন? আশা করি, বাকি যারা এখনো মাঠপর্যায়ে ‘গোপনে’ এই সমাজসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, খুব শিগগির এই তালিকায় নাম লিখিয়ে হাফসেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরির কোটা পূরণ করবেন।
ভাইয়েরা আমার, আপনাদের নিষ্ঠা আর মাদকের প্রতি অগাধ ভালোবাসার গল্প এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আপনারা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং কারাগারের ডাল-ভাত খেয়ে দেশের মাদকের বাজার আরও কতদূর এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করুন।
ইতি
চোখ কপালে ওঠা এক সাধারণ নাগরিক



