Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় সম্পাদকীয়

আগামীর চোখ

শেষ ভরসা গাছতলা!

agamir somoy
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯
শেষ ভরসা গাছতলা!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

বরাবর

সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আমি ‘কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়’ বলছি। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনাদরে-অবহেলায় পড়ে রয়েছি। বয়স আমার ৩১ বছর। এ বয়সে স্থায়ী অবকাঠামো, এমপিওভুক্তিসহ নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করার কথা। কিন্তু আমার পোড়া কপাল, আজও আমি জরাজীর্ণ বাঁশের বেড়া ও খুঁটির ওপর ভর দিয়ে কোনোরকম দাঁড়িয়ে আছি।

মাথার ওপর ছাদ না থাকলে শিক্ষার্থীরা বইটা কোথায় পড়বে বলুন?

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছি। ফলে স্থানীয় ‘অভিভাবক’দের নজরে তেমন একটা আসা হয় না। মাঝেমধ্যে তারা আসেন, আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যান। কিন্তু আমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। আমার অনেক সংকট। অনেক কিছুই আমার নেই। তবে যা প্রচুর পরিমাণে আছে, তা হলো ৩১৬ জন অদম্য শিক্ষার্থীর শিক্ষা লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর। ১৭-১৮ কিলোমিটার দূরের পথ পেরিয়ে অন্য স্কুলে যাওয়ার সাধ্য ওদের নেই। ফলে অত্র এলাকার একমাত্র বিদ্যালয় হওয়ায় আমার জরাজীর্ণ কোলেই ওরা আশার আলো খোঁজে। কিন্তু আমার দিন তো ফুরিয়ে এসেছে অনেক আগে। এখন বোনাস লাইফ কাটাচ্ছি। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে সেই পানি মাটি স্পর্শ করার আগেই আমার শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর পড়ে। আজকের দিনে এমনটা ভাবা যায়?

সারপ্রাইজ আরও বাকি আছে। শিক্ষার্থী ছাড়াও মাঝেমধ্যে বিষধর সাপ, রঙ-বেরঙের পোকামাকড়কে আশ্রয় দিতে হয়। বাধ্য হয়েই দিই, আমি তো নিরুপায়! এ নিয়ে মাঝেমধ্যে ডিপ্রেশনে ভুগি। তখন স্কুলের পাশাপাশি নিজেকে মনে হয় ‘চিড়িয়াখানা’! মরমি কবি ও গীতিকার হাছন রাজার ভাষায় বলতে হয়, ‘ঘর-বাড়ি ভালা নাই আমার’। ভালো করে যে ঘর বানাব, সে সাধ্য তো নেই।

মেয়েদের কমনরুম না থাকা, শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়া, শিক্ষকদের নামমাত্র সম্মানী নিয়ে টিকে থাকার পরও আমার শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট ভালো ফলাফল করে থাকে। অবকাঠামোগতভাবে জিরো হলেও ফলাফলে হিরো হওয়ার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখি না। সরকারি সুবিধা বলতে, প্রতি বছর বিনামূল্যে কিছু বই পাই। এখন মাথার ওপর ছাদ না থাকলে শিক্ষার্থীরা বইটা কোথায় পড়বে বলুন? পরিস্থিতি যেমন অনুভব করছি, তাতে আর কিছুদিন পর আদিকালের পাঠশালার মতো শিক্ষার্থীদের গাছের নিচে পড়ানো ছাড়া গতি থাকবে না। গাছের গায়ে সাইনবোর্ডে লেখা থাকবে ‘কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়’। তখন এ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন  ছাপলে আপনিই বিব্রত হবেন। তাই এবার যদি আমলাতন্ত্রের শিকল ভেঙে আমাকে এমপিওভুক্তির স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তি দেন, তাহলে আমিও কৃতজ্ঞ হই, আপনারও মানসম্মান বাঁচে। নইলে শেষ ভরসা গাছতলা!

 

ইতি

কয়লা পশ্চিম সোনাই উচ্চ বিদ্যালয়

 

সচিবদুর্গম পাহাড়িজরাজীর্ণআগামীর চোখশেষ ভরসা
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise