নদী যদি আইন হাতে তুলে নেয়!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর
আশা করি, ভালো আছেন। চাঁদপুরে থাকলে ভালো থাকারই কথা। কারণ লোকে বলে, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। তবে আমাদের ডাকাতিয়া নদী ভালো নেই। নদী নিজেই আজ ডাকাতির শিকার। হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন; মানুষ নয়, নদীই ভিকটিম। ডাকাতির স্টাইলও ভিন্ন। ডাকাতরা মুখে গামছা বেঁধে আসেন না, মানানসই পোশাকে আসেন। হাতে থাকে সাইনবোর্ড; সঙ্গে থাকে ইট, বালু, টিন, রড-সিমেন্ট এবং বহুতল ভবনের নকশা।
ডাকাতরা কেউ বসতঘর বানান, কেউ দোকান দেন, কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েন। এখন পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ৭৩৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, পাইকারি হারে ডাকাতি চলছে। লোকাল গার্ডিয়ানরা উদাসীন থাকলে এমন হওয়া স্বাভাবিক নয় কি?
শুনেছি, অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান হবে। ‘অচিরেই’ শব্দটির প্রতি আমাদের বিশেষ দুর্বলতা আছে। এই শব্দটি শুনলে আমরা আশ্বস্ত হই। কারণ, ‘অচিরেই’ এমন এক সময়, যার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই; কিন্তু আশা আছে। নদীও হয়তো এতদিন ধরে সেই ‘অচিরেই’ উচ্ছেদ অভিযানের অপেক্ষায় আছে।
ডাকাতিয়া নদীকে আর ডাকাতি হতে দেবেন না
আমরা এটাও জানি, নদী দখল করে ভবন বানানো যতটা সহজ, নদীকে দখলমুক্ত করা ততটাই কঠিন। ইট-সিমেন্টের ভবনগুলোর আড়ালে যে ডাকাত সোসাইটি রয়েছে, তাদের পেছনে আরও বড় শক্তি রয়েছে। তাই নদীকে বাঁচাতে হলে শুধু বুলডোজার নয়, দরকার প্রশাসনিক দৃঢ়তাও। তা না হলে আজ ৭৩৬টি স্থাপনা, কাল হয়তো তালিকাটি আরও বড় হবে। তখন ডাকাতিয়া নদী উদ্ধারের চেয়ে নদীর স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। অবশ্য দেশের অধিকাংশ নদীর পরিণতি সেদিকেই যাচ্ছে।
আর উচ্ছেদ করলেই যে কাজ শেষ, তাও নয়। নদীর ক্ষেত্রে দখলদার উচ্ছেদের পর আরেক দল গজিয়ে ওঠে। ফলে এটা ঠেকাতে স্থায়ী বন্দোবস্তের কথাও ভাবতে হবে। নইলে নদীকে মুক্ত করার এই অভিযান হবে শ্রম, রাষ্ট্রীয় অর্থ ও শক্তির ক্ষয়।
তাই আপনার কাছে আমার আবেদন— ডাকাতিয়া নদীকে আর ডাকাতি হতে দেবেন না। দয়া করে নদীটিকে তার নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দিন। ডাকাতিয়া অনেক ডাকাতির শিকার হয়েছে। এবার উদ্ধারের পালা। আপনি উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ডাকাতিয়া নিজেই আইন হাতে তুলে নেবে। অর্থাৎ ভরা বর্ষায় ডাকাতিয়া যদি স্বাভাবিকভাবে বয়ে যেতে না পারে, তাহলে বন্যায় সব ভাসিয়ে দিতে পারে। আর নদী যদি আইন হাতে তুলে নেয়, তার বিচার করা কিন্তু সম্ভব নয়। ফলে বিপর্যয় ঠেকাতে হলে দখলদারদের আইনের আওতায় আনুন।
ইতি
স্থানীয় এক বাসিন্দা



