মে দিবসের মিছিলে যুদ্ধের ছায়া

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মে দিবস। শুক্রবার মে দিবসের মিছিলে শামিল হচ্ছেন লাখ লাখ শ্রমিক। তাদের কণ্ঠে চিরাচরিত দাবি— বেতন বৃদ্ধি এবং উন্নত কাজের পরিবেশের পাশাপাশি যুদ্ধের বিপরীতে শান্তির দাবিও শোনা যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এই কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই এবার মে দিবসে সরব হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরা।
বিশ্বের অনেক দেশেই আজ সরকারি ছুটি। বড় শহরগুলোতে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মাসুল শ্রমিকরা দেবে না। মানুষের কাজ এবং জীবনযাত্রার মান নষ্ট হতে তারা দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও বয়কটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জীবনযাত্রার খরচ হু হু করে বাড়ছে। ফিলিপিন্সের ম্যানিলাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বড় জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানের শ্রমিক নেতারা বলছেন, স্থানীয় পরিস্থিতি এখন বিশ্ব সংকটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইন্দোনেশিয়াতেও শ্রমিকরা চরম আর্থিক সংকটে। পাকিস্তানে মূল্যবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সেখানে অনেক দিনমজুর পেটের দায়ে ছুটির দিনেও কাজ কামাই করতে পারছেন না।
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই প্রতিবাদের সুর চড়া। সিউল থেকে ইস্তাম্বুল-সব জায়গাতেই শ্রমিকরা রাস্তায় নামছেন। ফ্রান্সে ‘রুট, শান্তি ও স্বাধীনতা’র স্লোগান দিচ্ছেন শ্রমিকরা। সেখানে মে দিবস মানেই বাধ্যতামূলক ছুটি। তবে কিছু ছোট দোকানে কাজ করার অনুমতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইতালিতে সরকার কিছু কাজের সুযোগ বাড়ানোর কথা বললেও বিরোধীরা একে ‘প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পর্তুগালেও শ্রম আইন বদলের চেষ্টায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস সরকারি ছুটি নয়। কিন্তু সেখানেও কয়েক হাজার প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শোষণের বিরুদ্ধে আর ধনকুবেরদের প্রভাব কমানোর দাবিতে এই আন্দোলন। অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং ধনীদের ওপর কর বসানোর দাবিও তোলা হয়েছে। এই প্রতিবাদের শিকড় আসলে লুকিয়ে আছে শিকাগোর ইতিহাসে।
আশির দশকে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৮৮৬ সালের মে মাসে শিকাগোর হে-মার্কেট স্কোয়ারে এক সভায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশের গুলিতে এবং পরবর্তী বিচারে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতার মৃত্যু হয়। তাদের আত্মবলিদানের স্মৃতিতেই মে ১ তারিখ শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা শুরুহয়। আজ ইউরোপ থেকে এশিয়া— সব দেশেই এই দিনটি শ্রমিকের অধিকারের প্রতীক।
লেখক: প্যারিস ভিত্তিক অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিক



