নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন

সেতু আছে সড়ক নেই। উদয়পুর-রিকা সড়কের দত্তখিলা এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কের বেহাল পরিস্থিতির খবর প্রকাশিত হয়। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ, কোথাও সড়কের একাংশ দেবে গেছে, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। আবার কোথাও সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি মানুষের প্রত্যাশিত কাজে আসছে না। বর্ষা এলেই দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে নতুন সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রশ্ন আসে— কাজের মান কি যথাযথভাবে তদারক করা হচ্ছে? ঠিকাদারি কাজে কি জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে? নির্মাণের পর সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণইবা কতটা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।
সড়কের দুরবস্থার অর্থ শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি নয়; যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পায়। কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জরুরি রোগী, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হলে এর পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারে।
তাই সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; অর্থের সঠিক ব্যবহার, কাজের মান, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে সতর্কতামূলক সাইন, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
একটি দেশের উন্নয়নের চাকা যে সড়ক দিয়ে এগিয়ে যায়, সেই সড়কই যদি মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়, তবে উন্নয়নের সুফল প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ নয়; টেকসই, নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা।
লেখক: শিক্ষার্থী, রামগঞ্জ মডেল ডিগ্রি কলেজ, লক্ষ্মীপুর






