যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বনাম বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রামক রোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুকে কোলে ধরে আছেন এক মা। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের (এনএইচএস) দুটি হাসপাতাল খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে সম্প্রতি। নিকট অতীতে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছি। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান ও অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় যতটুকু দেখেছি, তাতে একটি বিষয় বারবার মনে হয়েছে—স্বাস্থ্যসেবা শুধু হাসপাতাল, ডাক্তার বা যন্ত্রপাতির বিষয় নয়; স্বাস্থ্যসেবা আসলে একটি সিস্টেমের বিষয়।
উন্নত বিশ্বের এসব দেশের হাসপাতালের পরিবেশ দেখে অনেক সময় মনেই হয় না এটি কোনো হাসপাতাল। অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি নেই, দালালের দৌরাত্ম্য নেই, রোগীর স্বজনদের দিশেহারা দৌড়াদৌড়ি নেই, চিকিৎসকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ নেই।
পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবে সাজানো যে রোগী, চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক/মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, টেকনোলজিস্ট/টেকনিশিয়ান, নিরাপত্তাকর্মী—সবাই জানেন কার দায়িত্ব কী, কোন কাজ কীভাবে হবে, আর রোগী কোথায় যাবে।
এনএইচএসের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো, জরুরি বিভাগে কার্যকর ট্রায়েজ সিস্টেম রোগী আসামাত্রই রোগের গুরুত্ব বুঝে তাকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভাগ করা হয়। কে আগে চিকিৎসা পাবে, তা পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের ভিত্তিতে নয়—রোগের জরুরি অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এটিই একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি।
ল্যাব টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, জরুরি ওষুধ, পর্যবেক্ষণ, ভর্তি—সবকিছু একই ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত। রোগীকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠিয়ে হয়রানি করা হয় না।
চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, প্রশাসনিক সহায়তা ও নিরাপত্তা—সবাই একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে কাজ করেন। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক্যাল টিম নেয়, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নয়।
হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ যারা জীবন বাঁচানোর কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থাই টেকসই হতে পারে না।
রোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা, সময়, ব্যথা, মানসিক অবস্থা—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশন নয়; এটি মানুষের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের বিষয়।
এখন প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশে কি এমন একটি সিস্টেম গড়া অসম্ভব?
আমার বিশ্বাস, একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। দেশে-বিদেশে আমাদের অসংখ্য মেধাবী চিকিৎসক সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। অভাব মূলত দক্ষ জনবলের নয়; অভাব হলো একটি সঠিক, মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও আমলাতন্ত্রমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার।
আমাদের বর্তমান জাতীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং উনার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন এবং সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুব কাছ থেকে দেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও একটি বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য স্বাস্থ্য সংস্কার শুরু করা সম্ভব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— চিকিৎসার অভাবে যেন আর একজন মানুষও মারা না যায়, স্বাস্থ্যসেবা যেন প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, গরিব, মধ্যবিত্ত, গ্রাম, শহর—সবাই যেন মর্যাদার সঙ্গে চিকিৎসা পায়।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে নীতিনির্ধারকদের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব—
স্বাধীন হেল্থ ট্রাস্ট গঠন
স্বাস্থ্য খাতকে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে অঞ্চলভিত্তিক স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হেল্থ ট্রাস্ট গঠন করা যেতে পারে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী—সবাই একই সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে কাজ করবেন।
এতে হাসপাতাল পরিচালনা হবে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়। প্রতিটি ট্রাস্টের নির্দিষ্ট লক্ষ্য, বাজেট, কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহি থাকবে।
শক্তিশালী জরুরি ও ট্রায়েজ সিস্টেম চালু
প্রতি উপজেলা/জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক জরুরি বিভাগ চালু করতে হবে। রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রায়েজের মাধ্যমে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা ল্যাব, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, জরুরি ওষুধ, অক্সিজেন, ব্লাড সাপোর্ট এবং পর্যবেক্ষণ সুবিধা থাকতে হবে। জরুরি রোগী যেন রিপোর্ট, টাকা, স্লিপ বা দালালের কারণে আটকে না যায়—এটি নিশ্চিত করতে হবে।
পিপিপি মডেল
বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। কিন্তু এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। এলাকাভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে।
সরকার নির্দিষ্ট মানদণ্ড, রেট, রেফারেল সিস্টেম ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দরিদ্র ও জরুরি রোগীদের জন্য বেসরকারি সেবাও ব্যবহার করতে পারে। এতে সরকারি হাসপাতালের চাপ কমবে এবং রোগীকে পকেটের টাকা খরচ করে দিশেহারা হয়ে প্রাইভেটে ছুটতে হবে না।
প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা
উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসক, নার্স, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের জাতীয় সম্পদ। সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ প্রবাসী চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের দেশে এসে স্থায়ী, অস্থায়ী বা অনলাইনভিত্তিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানানো যেতে পারে। তাদের মাধ্যমে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, ইমার্জেন্সি কেয়ার, রেফারেল সিস্টেম, ক্লিনিক্যাল গভর্ন্যান্স, পেশেন্ট সেফটি, ইনফেকশন কনট্রেল এবং ট্রেনিং মডিউল তৈরি করা সম্ভব।
বাস্তবভিত্তিক স্টাডি ট্যুর ও এসওপি তৈরি
মশা নিধন, খিচুড়ি রান্না বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিদেশ ভ্রমণের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে প্রকৃত স্বাস্থ্য সংস্কারের জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মাঠপর্যায়ের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের দল যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান বা অন্যান্য উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশে পাঠানো যেতে পারে।
তারা সরাসরি হাসপাতাল, জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, কমিউনিটি কেয়ার, রেফারেল সিস্টেম ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা দেখে এসে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর তৈরি করবেন।
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী প্রাইমারি হেল্থ কেয়ার
শুধু বড় হাসপাতাল বানালেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা বদলাবে না। রোগীর প্রথম আশ্রয় হতে হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী হলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন জটিলতা, শিশুস্বাস্থ্য, টিকা, সংক্রামক রোগ ও সাধারণ অসুখ অনেক আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে বড় হাসপাতালে চাপ কমবে এবং মানুষ নিজের এলাকার কাছেই চিকিৎসা পাবে।
ডিজিটাল হেল্থ রেকর্ড ও রেফারেল সিস্টেম
প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড তৈরি করা যেতে পারে। রোগী কোথায় চিকিৎসা নিলেন, কী পরীক্ষা হলো, কী ওষুধ চলছে—সব তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকলে চিকিৎসার মান বাড়বে, সময় বাঁচবে এবং ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমবে।
একই সঙ্গে একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম দরকার। কোন রোগী ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকবে, কাকে উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে, কাকে জেলা হাসপাতালে এবং কাকে মেডিকেল কলেজ বা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে—এর স্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রশিক্ষণ
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি নিরাপদ না থাকেন, সম্মান না পান, নিয়মিত প্রশিক্ষণ না পান—তাহলে ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়া সম্ভব নয়। হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনগত সুরক্ষা, পর্যাপ্ত জনবল, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা এবং নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্ককে প্রতিপক্ষের সম্পর্ক নয়, আস্থার সম্পর্কে রূপ দিতে হবে।
দুর্নীতি, দালালচক্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা
স্বাস্থ্য খাতে দালালচক্র, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ কোম্পানির অস্বচ্ছ প্রভাব, যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম—এসব বন্ধ না করলে কোনো সংস্কার সফল হবে না।
প্রতিটি হাসপাতালের জন্য স্বচ্ছ হিসাব, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থা, স্বাধীন মনিটরিং এবং নিয়মিত অডিট চালু করতে হবে।
হেল্থ ফর অল
স্বাস্থ্যসেবা হবে অধিকার, পণ্য নয়; বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের মূল দর্শন হওয়া উচিত—স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম, প্রভাবশালী-সাধারণ মানুষ—সবাই যেন একই মর্যাদায় চিকিৎসা পায়।
আমাদের দেশে অনেক বড় বড় অবকাঠামো হয়েছে। এখন সময় এসেছে মানুষের জীবন বাঁচানোর অবকাঠামোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার। একটি ভালো হাসপাতাল শুধু ভবন নয়; এটি একটি শৃঙ্খলিত সিস্টেম, প্রশিক্ষিত জনবল, মানবিক আচরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহির সমন্বয়।
আমি জানি, আমার জ্ঞান সীমিত। দেশ-বিদেশে স্বল্প সময়ের পর্যবেক্ষণ থেকে এই ভাবনাগুলো লিখলাম। আমাদের দেশে শত শত সিনিয়র চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপক, নার্সিং বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক রয়েছেন। তাদের মূল্যবান মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ পেলে এই আলোচনাটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
আমরা চাই চিকিৎসার অভাবে যেন আর কোনো মা সন্তান হারান না। টাকার অভাবে যেন কোনো বাবা অপারেশন করাতে না পেরে মারা না যান। অ্যাম্বুলেন্স, বেড, আইসিইউ, অক্সিজেন বা রক্তের অভাবে যেন কোনো পরিবার অসহায় হয়ে না পড়ে। গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য শহরে এসে সর্বস্বান্ত না হয়। আর চিকিৎসক যেন নিরাপদ পরিবেশে মাথা উঁচু করে মানুষের সেবা দিতে পারেন।
সদিচ্ছা, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি থাকলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে বদলে দেওয়া অসম্ভব নয়। হয়তো একদিনে হবে না, কিন্তু সঠিক পথে শুরু করলে ১–২ বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
লেখক: ডা. ফজলে এলাহী খাঁন। এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমডি (নেফ্রোলজি), এফআরএসএম (লন্ডন), এমএসিপি (আমেরিকা)। সহযোগী অধ্যাপক, সংযুক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা।




