গবেষণাহীন উচ্চশিক্ষায় শুধুই অপচয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাধারণত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাকে সব দেশে উচ্চশিক্ষা নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। উচ্চশিক্ষা কোনো দেশে সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। মূলত স্কুল শিক্ষাই সব দেশে বাধ্যতামূলক হয়ে থাকার নিয়ম রয়েছে। এটি আধুনিক দুনিয়ায় উন্নত দেশগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করে থাকে। স্কুলপর্যায়ের শিক্ষাক্রমে বিশেষজ্ঞরা জীবন ও কর্মদক্ষতার মান নির্ণয় করেই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, পঠন-পাঠনের প্রণালি নির্ধারণ এবং দক্ষতা অর্জন ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা করে থাকেন। ফলে উন্নত দেশেগুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর স্কুল শিক্ষা শেষে কর্মজীবনে স্বেচ্ছায় প্রবেশ করতে কোনো বাধা থাকে না। এতে তাদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
উচ্চশিক্ষা লাভে উন্নত বিশ্বে যেসব শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়, তারা এসব বিষয়ে আধুনিক বিশ্বমানের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ধারণা লাভের সব সুযোগ পেয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের সেসবই সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে হয়। উচ্চশিক্ষার শিক্ষাক্রম প্রতিনিয়ত বাস্তব কর্মক্ষেত্র এবং দুনিয়ার তথ্য ও প্রযুক্তি-সম্পর্কীয় ধারণার চলমান বিকাশকে ধারণ-গ্রহণ ও পর্যালোচনার মধ্যে রাখা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদেরকে শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা পাঠাগারনির্ভর থাকলেই চলে না, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের শুরু থেকেই স্বীয় পছন্দের
আমাদের দেশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কয়েকটি কলেজ উচ্চশিক্ষার হাল ধরেছিল। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দেশবিভাগের পর অনেক প্রখ্যাত শিক্ষক ও গবেষক দেশ ছেড়ে যাওয়ার ফলে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি পূরণের চেষ্টা ধারাবাহিকভাবে বিকশিত করার উদ্যোগ পাকিস্তান রাষ্ট্র নেয়নি। তা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য বৈষম্যের প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেও পড়েছিল। ফলে আমাদের কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
আমাদের উচ্চশিক্ষায় মেধার বিকাশ কতটা ঘটছে, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। বলা চলে, মেধার বিকাশের চেয়ে অপচয় বেশি ঘটছে
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনো যুগোপযোগী শিক্ষাভিত্তিক কর্মসূচি ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনুসরণ করা হয়নি। ফলে দেশে উচ্চশিক্ষায় মানের অধোগতি দ্রুত স্থান দখল করে নিতে শুরু করে। দেশে একসময় চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের অধিভুক্ত কয়েকটি কলেজের কিছু বিষয়ের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষাক্রম চললেও গবেষণার ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই খুব একটা অনুষ্ঠিত হয়নি। আশি এবং নব্বইয়ের দশক থেকে দেশে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে
লেখক: অধ্যাপক, গবেষক




