যুদ্ধে হুতিদের সম্পৃক্ততা নৌপরিবহনের জন্য নতুন হুমকি!

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে হুতিদের সম্পৃক্ততা অঞ্চলটির তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ইতোমধ্যে প্রায় এক মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এখন হুতিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ—বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, যা লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।
‘বাব আল-মান্দেব’ শব্দের অর্থ ‘অশ্রুর দ্বার’, কারণ এই প্রণালিতে নৌচলাচল বেশ কঠিন। সবচেয়ে সরু অংশে এর প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম ১১ মাসে এই প্রণালী দিয়ে তিন কোটি টনেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ কনটেইনার পরিবহন এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এখান দিয়ে যায়।
গাজায় ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। গত নভেম্বর হামলা স্থগিত ঘোষণার আগে তারা ১০০টিরও বেশি জাহাজে আঘাত হানে।
এই হামলাগুলোর কারণে শত শত জাহাজকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে বাধ্য হতে হয়, ফলে যাত্রা সময় ও খরচ উভয়ই বেড়ে যায়।
হুতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মানসুর সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়া ‘সম্ভাব্য একটি বিকল্প’।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজকে এক সূত্র সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, তাহলে ‘আরেকটি প্রণালী তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে’—এবং ইরান পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে প্রস্তুত।
হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের তেল রপ্তানির একটি অংশ পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিচ্ছে, যার দৈনিক সক্ষমতা প্রায় সাত মিলিয়ন ব্যারেল। এর ফলে লোহিত সাগরে ট্যাংকার চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।


