স্কারবরো সাউথওয়েস্টে মুখোমুখি দুই বাংলাদেশি প্রার্থী

কানাডার স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক উপনির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক উপনির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। অন্টারিও লিবারেল পার্টির আহসানুল হাফিজ এবং প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির ডা. এএসএম নুরুল্লাহ তারুণের পাশাপাশি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও চার প্রার্থী। বাংলাদেশি ভোটারদের মধ্যে দুই প্রার্থীকে ঘিরে আগ্রহের পাশাপাশি কে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে স্কারবরো সাউথওয়েস্টে উপনির্বাচন। এর আগে ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ওয়েস্ট স্কারবরো নেইবারহুড কমিউনিটি সেন্টারে প্রার্থীদের মুখোমুখি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচনী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন করা হবে।
জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনসংকট, খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্য এবং স্থানীয় মানুষের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিতর্কে গুরুত্ব পাবে। এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি কেন তারা নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য যোগ্য, তা ভোটারদের সামনে ব্যাখ্যা করবেন প্রার্থীরা।
ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক, স্কারবরো ইউনাইটেড নেইবারহুডস এবং সাউথ এশিয়ান উইমেনস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস সার্ভিসেস যৌথভাবে আয়োজন করছে এ বিতর্কের। এটি পরিচালনা করবেন কমিউনিটি সেন্টার ৫৫-এর নির্বাহী পরিচালক রেজা খোশদেল।
স্কারবরো সাউথওয়েস্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে দুই বাংলাদেশি প্রার্থীর উপস্থিতি এবারের নির্বাচনে কমিউনিটির ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে অন্টারিও এনডিপির প্রার্থী ফাতিমা শাবানের অবস্থানও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দুই প্রার্থীই পরিচিত। আহসানুল হাফিজ প্রায় ২৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ সংগ্রাম ও মেধার মাধ্যমে কানাডার রাজনীতি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ফেডারেল লিবারেল পার্টির অন্টারিও প্রদেশের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি সফল। অন্টারিওজুড়ে প্রায় ৩০টি ডমিনোস পিৎজা বিপণনকেন্দ্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত এবং ডমিনোস করপোরেশনের একজন পরিচালক।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্কারবরো সাউথওয়েস্টে পারিবারিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন ডা. এএসএম নুরুল্লাহ তারুণ। মানুষের সেবা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকায় পরিচিতি ও আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সদস্য সংগ্রহ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে ডা. তারুণের প্রচারণা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী এলাকার নিবন্ধিত ভোটারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় এই জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের সাবেক প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য ডলি বেগমকে ঘিরেও আগ্রহ রয়েছে নির্বাচনী এলাকায়। ২০১৮ সাল থেকে এ আসনের সদস্য ছিলে তিনিন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যপদ ছেড়ে যোগ দেন ফেডারেল লিবারেল পার্টিতে। পরে ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে একই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পদত্যাগের কারণে প্রাদেশিক আসনটি শূন্য হয় এবং নতুন উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্থানীয় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় ডলি বেগম এখনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি।
এবারের উপনির্বাচনে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির ডা. এএসএম নুরুল্লাহ তারুণ, অন্টারিও লিবারেল পার্টির আহসানুল হাফিজ, অন্টারিও এনডিপির ফাতিমা শাবান, গ্রিন পার্টির মার্ক বেকারিং, নিউ ব্লু পার্টির ক্রিস রিস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইকেল পারডেলউইৎজ।
উপনির্বাচনের আগাম ভোট গ্রহণ হবে ২৬, ২৭ ও ২৮ আগস্ট। এসব দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। মূল ভোটের দিন ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ভোটকেন্দ্র।
স্কারবরো সাউথওয়েস্টের নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের পরিকল্পনা ও অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ হিসেবে ১৮ আগস্টের বিতর্ককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি ভোটারদের সমর্থন কোন প্রার্থীর দিকে যায় এবং তা নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।







