ইন্দোনেশিয়ায় একই দিনে তৃতীয়বারের মতো ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার টমিনি উপসাগরে শনিবার রাতে আঘাত হেনেছে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটিতে তৃতীয় ভূমিকম্প এটি। এর আগে সকালে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ওই ভূমিকম্পের পর জারি করা হয়েছিল সুনামি সতর্কতাও।
ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে টমিনি উপসাগরে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৬৮ কিলোমিটার গভীরে। কেন্দ্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানায় এ তথ্য।
এর আগে শনিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিকম্পে ৩৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। প্রায় ২ হাজার মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
ভূমিকম্পের পর অনুভূত হয়েছে বেশ কয়েকটি আফটারশক। মাউমেরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান জানান, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে কাদার নিচে চাপা পড়া দুই গ্রামবাসীর সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশের প্রধান রুদি দারমোকো বলেন, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। প্রয়োজনে দুর্গত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজেও ব্যবহার করা হবে এটি। পূর্ব নুসা তেংগারা অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে গঠিত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন। এ কারণে আকাশপথে সহায়তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নেগেকিও অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার গ্রামবাসীও ভূমিকম্পের পর বাড়িঘর ছেড়ে অবস্থান নিয়েছেন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।







