ঈদযাত্রা
উত্তরের পথে ভোগান্তি বেশি, স্বস্তি ছিল দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
- দ্বিমুখী স্রোতে মহাসড়কের ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যায়
- বড় যানজট ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে
- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পথে ভুগিয়েছে বৃষ্টি ও চান্দনা চৌরাস্তা
- সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ফ্লাইওভার ও ইন্টারচেঞ্জ চালু হওয়ায় স্বস্তি
- ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংকুচিত রাস্তায় কষ্ট

সংগৃহীত ছবি
এবারের ঈদুল আজহায় ঘরে ফেরার যাত্রায় ঢাকা থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পথে ভোগান্তি বেশি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মতো অনেকটা কাছাকছি যন্ত্রণা পেয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীরাও। তবে ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রা পথে স্বস্তির স্বাদ মিলেছে। এবার ব্যতিক্রম ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত। এই দুই পথে অন্যান্য সময়ের মতো যানজট হয়নি।
টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি এখনও চলছে। গত সোমবার শুরু হওয়া ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হবে আগামী রবিবার। সোমবার থেকে আবারও কাজে ফিরবে কর্মজীবী মানুষ। এখনও ফিরতি যাত্রার চাপ তৈরি হয়নি। যদিও ঘরে ফেরার ক্লান্তি দূর হয়েছে কিনা? সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবারের কোনো কোনো সদস্যকে আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তবুও ঈদের আগের দুই দিন ঈদযাত্রার ভয়াবহ চাপ তৈরি হয়। এই লম্বা ছুটিতে প্রায় কোটি মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। এর চাপ সইতে হয়েছে ভুঙ্গর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে। এতেই ফুটে উঠেছে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর দ্বিমুখী চিত্র। আবার অন্যান্য উৎসবের চেয়ে ঈদুল আজহায় সড়ক ব্যবহারের ধরণ ভিন্ন থাকে। এ সময় মহাসড়কগুলোতে দুই মুখেই চাপ তৈরি হয়। একদিকে, ঢাকা থেকে কোটি মানুষের বের হওয়া। অন্যদিকে ঢাকায় হাজারও পশুবাহী ট্রাকের প্রবেশ। এতে করে সড়ক মহাসড়কে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
হাইওয়ে পুলিশের চিহ্নিত করা ৯৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্পটের বেশ কয়েকটিতে ঈদের আগের তিন দিন থেমে থেমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো ব্যতিক্রম ছিল ঢাকা-মাওয়া-পদ্মা সেতু মহাসড়কে যাতায়াত। এ পথে তুলনামূলক স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা দেখা যায়।
আগামীর সময়ের জেলার প্রতিনিধি, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হয় তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় গাজীপুরের ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এই রুটে যানবাহনের গতি মারাত্মকভাবে মন্থর হয়ে পড়ে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমুখী মোড় এবং নবীনগর এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের একযোগে ছুটির পর মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। এখানেও লক্ষ্য করা গেছে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং হাইওয়ে পুলিশের মতে, ৫ কারণে সড়কে ভোগান্তি বেশি হয়েছে। এগুলো হলো- পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের দ্বিমুখী চাপ; চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও খানাখন্দ; অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা; ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হওয়া এবং মহাসড়কের পাশে পশুর হাট ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করা।
তাদের কথায়, ঈদের আগের দিনগুলোতে ঢাকা থেকে প্রায় কোটি মানুষ যেমন বাইরে গেছে, ঠিক তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পশুবাহী ট্রাক ঢাকার পশুর হাটগুলোর উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছে। এই দ্বিমুখী স্রোতের কারণে মহাসড়কের ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান চারলেন উন্নয়ন কাজের কারণে রাস্তা অনেক জায়গায় সংকুচিত ও সরু হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারেনি।
ঈদযাত্রায় সঙ্গী ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হয়। বিশেষ করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল ও মহাসড়কের কিছু অংশে পানি জমে যাওয়ায় গাড়ির চাকা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি তো বরাবরের মতো ছিলই। যমুনা সেতু সংযোগ সড়ক এবং সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি পশুবাহী ট্রাক ও পুরনো বাস বিকল হয়ে পড়ায় পেছনের হাজার হাজার গাড়ি আটকে পড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কের একদম গা ঘেঁষে পশুর হাট বসানো এবং বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলায় পেছনের গাড়ির গতি ব্যাহত হয়েছে।
তবে বিগত বছরগুলোতে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরকে ‘ভোগান্তির মহাসড়ক’ বলা হলেও, এবার সেখানে চিত্র ছিল ভিন্ন। নবনির্মিত হাটিকুমরুল ফ্লাইওভার ও ইন্টারচেঞ্জ পুরোপুরি চালু থাকায় সেতু পার হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলগামী গাড়িগুলো কোনো বাধা ছাড়াই অনায়াসে চলে যেতে পেরেছে।
একইভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজায় অতিরিক্ত ৫টি বুথ চালু করায় সেখানে কোনো দীর্ঘ জট তৈরি হয়নি।






