৬ মাসে রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি
- ১৮০ দিনে বাকস্বাধীনতা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে : ড. মাহদী আমিন

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে মতবিনিময় । ছবি: পিএমও
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তার দাবি, ১৮০ দিনে বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ মানবিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে আয়োজিত সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মাহদী আমিন বললেন, বিভিন্ন সময় উসকানি ও অশোভন আচরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সরকার ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছে। তার ভাষায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের চেতনাকে ধারণ করেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
১৬ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান সম্ভব নয়। তবে এ সময়ের মধ্যে সরকার একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা রয়েছে বলেও দাবি করলেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের বড় অর্জন হিসেবে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তার বক্তব্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণার একমাত্র উৎস জনগণ। সে ভিত্তিতেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন সংস্কারের কথাও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগির ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। তবে কমিশনের কাজকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো ও জনবলকে আগে পরিচ্ছন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ বরদাশত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন সরকারের উপদেষ্টারা। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, মব কালচার অনভিপ্রেত এবং কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বললেন, দেশে মব কালচারের মাত্রা আগের তুলনায় কমেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন বা প্রভাব কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচার তত কমে আসবে। একই সঙ্গে কোনো বিরোধী মতের কারণে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানালেন, স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার দাবি, বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অনুভূতি নেই। এ ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ১৮০ দিনে মানুষের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নিজে তার পরিবারের কাছে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, মজলুমের ঘরে সরকারপ্রধানের উপস্থিতি রাষ্ট্র ও সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতারই প্রতীক।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিশৃঙ্খলার’ মধ্যেও ছয় মাস দেশ পরিচালনা করতে পারাকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তার মতে, আগের সরকারের রেখে যাওয়া জঞ্জাল ও সংকটের মধ্যেও দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা বর্তমান সরকারের জন্য বড় অর্জন।
তবে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের এই মূল্যায়নে যেমন সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি সামনে জনপ্রশাসন সংস্কার, আইনের শাসন জোরদার, মব কালচার বন্ধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।






