সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়াতে আইসিটি মন্ত্রী-সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
সাক্ষাৎকালে ‘ওয়ান আইডি–ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা, অনলাইন আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং নাগরিকবান্ধব সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুইডেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ওলি লুন্ডিন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, এই আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং অনলাইন হয়রানি, অপপ্রচার এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট প্রতিরোধ করা। এই প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান রাখা হবে বলে তিনি যোগ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী তুলে ধরেন, প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিপরীতে, রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সুইডেনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া সাক্ষাৎকালে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্ব গড়ে তোলার ওপর আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে উভয় দেশ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



