শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মনিটর করা হচ্ছে নির্বাচন : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন । ছবি : সংগৃহীত
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ। পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ। নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছেন ভোটাররা। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কথা বলেছেন সিইসি।
‘বাই-ইলেকশনে সাধারণত একটা টেনডেন্সি থাকে ভোটার টার্ন আউট কম হওয়ার। তারপরও দেখা যাক কী হয়। তবে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে আসছে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। ইলেকশন বলতে সারা বিশ্বব্যাপী যা বোঝায়, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে যা বোঝায়, সেটা আমরা দেখাতে চাই,’ বলছিলেন সিইসি।
‘সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে এ নির্বাচন। ড্রোন থেকে শুরু করে সবকিছু হচ্ছে ব্যবহার কন্ট্রোলরুম থেকে করা হচ্ছে মনিটর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেমন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, দেশবাসী ও বিশ্ববাসী দেখেছেন, এটাও যেন অন্তত তার চেয়ে ভালো ছাড়া খারাপ না হয়— তাতেই জোর আমাদের,’ যোগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
দুটি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে। সে সময় দুটি আসনে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে ছেড়ে দেন তিনি বগুড়া-৬ আসন। তাই সেখানে হচ্ছে উপনির্বাচন।
অন্যদিকে, তফসিল ঘোষণার পর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হয় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন। সেখানেও হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন।
বগুড়া-৬ আসন
বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মো. আল-আমিন তালুকদার।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫০টি এবং ভোটকক্ষ ৮৩৫টি। মোট ভোটারসংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯। নির্বাচন কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। সেনাবাহিনীর ২৫০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে। পাশাপাশি বিজিবির ৮ প্লাটুন (১৮৯ জন), র্যাবের ১০ টিম (৭০ জন), পুলিশের ১ হাজার ৩২৭ ও আনসার-ভিডিপির ১ হাজার ৯৯০ সদস্য থাকবেন মাঠে।
শেরপুর-৩ আসন
শেরপুর-৩ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।
এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১২৮টি ও ভোটকক্ষ ৭৫১টি। মোট ভোটারসংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬। এখানে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনীর ১৪০ সদস্য। এছাড়া বিজিবির ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র্যাবের ১৪ টিম (১৩৫ জন), পুলিশের ১ হাজার ১৫৫ ও আনসার-ভিডিপির ১ হাজার ৭০৪ সদস্য থাকবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে।
সার্বিক প্রস্তুতি ও তদারকি
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ১৮ থেকে ২০ জন করে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করার পাশাপশি দায়িত্ব পালন করেছেন ৩৬ নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম। এ তথ্য জানিয়েছিলেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
দুই আসনেই ইসির নিজস্ব ১৮ জন করে পর্যবেক্ষক থাকছেন এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন চার শতাধিক। রাখা হয়েছে পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাও। নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৫ হাজার প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার।

