চাকরি হারানো পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। ছবি : আগামীর সময়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। ‘অন্যায্যভাবে’ চাকরি হারানো এই সদস্যরা তাদের পদ ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানালেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত সদস্যরা জানালেন, তারা গত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া ১ হাজার ৫২২ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতিনিধি। সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধ বা সুষ্ঠু বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াই শুধু মাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
কর্মসূচিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন জানানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক বিবেচনায় তাদের পুনর্বহালের পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।
এই আদেশের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দফতর ডিআইজি পদের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ ছয় মাস পর্যালোচনার পর কমিটি চারটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেয়।
তদন্ত কমিটির ৩ নম্বর সুপারিশের কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা জানালেন, সেখানে বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, তাদের চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বেআইনি ছিল।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল, এই ১ হাজার ৫২২ জন সদস্য খুব শিগগিরই চাকরি ফেরত পাচ্ছেন।
তবে মূল আদেশ বাস্তবায়নে বৈষম্য ও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রয়োগে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং তদন্ত কমিটির সুস্পষ্ট মতামত থাকার পরও ফাইল আটকে থাকায় পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
মানববন্ধনে সাবেক সাব-ইনস্পেক্টর মামুন সিরাজুল হক জানালেন, তারা কোনো অন্যায্য সুবিধা চান না; বরং ছিনিয়ে নেওয়া অধিকার ও ন্যায়বিচার চান। তদন্ত কমিটির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুনর্বহালের চূড়ান্ত আদেশ বাস্তবায়ন করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।





