বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় ডেনমার্ক

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে টেকসই অবকাঠামো, জ্বালানি খাত, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে চায় ডেনমার্ক।
আজ রবিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক মোলার এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর গতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এর কার্যক্রম ও এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সুসমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পটি ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে ডেনমার্কের কারিগরি অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। আলোচনায় হাতিয়ার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত স্বর্ণদ্বীপের সার্বিক সম্ভাবনার বিষয়টিও উঠে আসে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ও সম্ভাবনাময় জমি এবং শিল্পসম্পদে ডেনিশদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় পূর্বে চিনিকলসহ বিভিন্ন কারখানা ছিল বা বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে, সেসব স্থানে নতুন শিল্প স্থাপন বা বিদ্যমান সম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহারের সুযোগ ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়। আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট প্রস্তাব আনলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে দুদেশের সহযোগিতার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ড. জুলিয়া মইন দেশের উত্তরাঞ্চলে এ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি মৌসুমি কৃষিপণ্যভিত্তিক সম্ভাব্যতা যাচাই, কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন ফলমূল থেকে আন্তর্জাতিক মানের পানীয় ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।



