বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, রূপ নিতে পারে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে

প্রতীকী ছবি
পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বুধবার ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে আজ ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে এ পূর্বাভাস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এখন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তর-পশ্চিমদিকে অগ্রসর হয়ে অর্ণব অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। বাতাসের গতি ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
অর্ণবের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবারই ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ সময় নাগাদ বাতাসের গতি সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস উল্লেখ করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, অন্ধ্র প্রদেশ, ওডিশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গসহ আরও কিছু অঞ্চলে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এখন ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আজ সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। দমকা হাওয়াস বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবর সকাল নাগাদ বাতাসের গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার পর বাতাসের গতিবেগ কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। এ নামটির অর্থ বাংলা ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’ শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০২০ সালের এপ্রিলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক প্যানেল গৃহীত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সরকারি নামের তালিকায় এ নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকায় ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নাম রয়েছে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
প্রতিটি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়েছে। ফলে তালিকায় মোট নামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৯। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।




