আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা
রাজস্ব বৃদ্ধিতে চিংড়ি মহালের আইন সংশোধন, পুনর্গঠন হবে কমিটিও

ছবি: আগামীর সময়
সারা দেশে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং অতীতের অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। কোনো লিজকৃত জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে পারবে।
চিংড়ি চাষের উপযোগী এবং এরই মধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে, এমন খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়ার পাশাপাশি চিংড়ি মহাল কমিটিগুলো পুনর্গঠনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় বন নির্ধারণ ও এর সীমানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বললেন, চিংড়ি খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি সংশোধন করা হবে।
‘সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাও’— যোগ করেন ভূমিমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালও। বললেন, ‘দেশের চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
‘প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হচ্ছে’— যোগ করেন ব্যারিস্টার হেলাল।
চিংড়ির বাহারি পদ
২৭ অক্টোবর ২০২৬
সভায় কক্সবাজার জেলার চিংড়ি মহালসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, যেসব জমিতে বন নেই, সেগুলো বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করা। বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) করা হাইকোর্টের রিট মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন, নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং আগের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




