যেসব সুবিধা পাবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

সংগৃহীত ছবি
গাড়ি, বাসভবন, বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ও উন্নয়ন বরাদ্দসহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পর পতাকাবাহী সরকারি গাড়িতে করে মন্ত্রীরা নিজ নিজ বাসভবনে যান। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, দলের কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট নেবেন না। তবে আইন অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা নির্ধারিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে ‘দ্য মিনিস্টার্স অ্যান্ড মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট’-এ।
প্রধানমন্ত্রীর সুবিধা নির্ধারিত ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে। একজন মন্ত্রী মাসিক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন-ভাতা পান। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পান, যার ভাড়া দিতে হয় না। বাসার রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামতের খরচ সরকার বহন করে। কেউ সরকারি বাসভবনে থাকতে না চাইলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৭০ হাজার টাকা করে বাসাভাড়া পান।
নিজ বা ভাড়া বাসায় থাকলে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের বিলও সরকার বহন করে। সরকারি বাসভবনের সাজসজ্জার জন্য মন্ত্রী বছরে পাঁচ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী চার লাখ টাকা পান। গাড়ি সুবিধার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি পরিবহন পুল থেকে গাড়ি পান। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি বা সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে।
সরকারি প্রয়োজনে বা নির্বাচনী এলাকায় সফরের সময় মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা থেকে একটি জিপ ব্যবহার করতে পারেন। দেশের ভেতরে সফরে গেলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দৈনিক দুই হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী দেড় হাজার টাকা ভাতা পান। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা রয়েছে। মন্ত্রীদের জন্য একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সহায়ক, আরদালি ও বাবুর্চিসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা তুলনামূলক কম সংখ্যক সহায়ক কর্মী পান। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকার বহন করে। ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা আইনে নির্ধারিত নেই, তবে ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হয়। দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান।
এছাড়া নিজ নির্বাচনী এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা দাতব্য কাজে ব্যয়ের জন্য মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ, প্রতিমন্ত্রী সাড়ে সাত লাখ এবং উপমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। নির্ধারিত সীমার মধ্যে তারা ব্যক্তিগত অনুদান দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী মাসিক এক লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক এবং এক লাখ টাকা বাড়িভাড়া পান। বিনোদন ব্যয়ের অর্থ ভাতা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অফিস থেকে বাসা ও বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে।
রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি অতিরিক্ত প্রটোকল ও নিরাপত্তা সুবিধাও ভোগ করেন। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয় এবং তা প্রকাশযোগ্য থাকে। প্রতি বছর এ হিসাব হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে।

