শুধু দুর্গাপূজায় নয়, ৩৬৫ দিনই নিরাপত্তা চায় হিন্দু সম্প্রদায়
- সারা দেশে হচ্ছে ৩৩,৮৫১টি দুর্গাপূজা
- ঢাকা মহানগরে হচ্ছে ২৫৮টি
- তিন কারণে সরকারকে ধন্যবাদ

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ
শুধু দুর্গাপূজার পাঁচ দিন নয়, বছরের ৩৬৫ দিনই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, গত ৫৫ বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত বড় বড় নির্যাতন ও হামলার ঘটনাগুলোর বিচার হয়নি। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি তুলে ধরতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
এ সময় সন্তোষ শর্মা বলেন, ‘দুর্গাপূজায় প্রতিবছরই কিছু প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। অতীতে এসব ঘটনায় বিচার হত না, কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হত না। এখন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, সারা দেশে পূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করবে এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা রেখে বলা হয়, এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ সব ধর্মীয় ও সর্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠান কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা পুলিশি পাহারা ছাড়াই অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে উদযাপন করা যাবে।
এ সময় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, সব ধর্মীয় নেতার জন্য ভাতা চালু এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সরকারি বরাদ্দ এক কোটি টাকা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১। তবে ঢাকা মহানগরে এবার পূজার সংখ্যা কমেছে। গত বছর ২৬১টি পূজা হলেও এবার হচ্ছে ২৫৮টি।
সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। এর মধ্যে আছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ব্যবস্থা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ।
সভায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষায় আট দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর এবং দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ।
সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাবেক সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও কাজল দেবনাথ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, উপদেষ্টা বীরেশ চন্দ্র সাহা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ।



