ভোট আজ, দেশজুড়ে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা ও কারচুপি ঠেকাতে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল শুরু হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরা।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের ধরতে কয়েক দিন ধরেই চলছে বিশেষ অভিযান। রাজধানীর প্রবেশপথে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর। বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র।
নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স, বাইরে থাকবে মোবাইল টিম, আর জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবে পৃথক বাহিনী। কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব দ্রুত পৌঁছাবে। এ জন্য আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষেই প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা হবে। ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি এজেন্টদের দেওয়া হবে।
আগের নির্বাচনে সেনাবাহিনী কেবল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। এবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় তিন বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য বাহিনীর মতো তারাও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর ৩১৭টি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত ও ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। বেসরকারি কয়েকটি সংস্থার হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৭। ভোটের দিন এবং পরবর্তী কয়েক দিনও সারাদেশে কড়া প্রহরা থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ তিন হাজার সদস্য। পুলিশ সদস্য এক লাখ ৮৭ হাজার। আনসার ও ভিডিপির সদস্য থাকছেন পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন ১১ হাজার ৯১০ জন।
রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য দায়িত্বে নেমেছেন। নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০, কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্বে ভোটকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন এক লাখ ৫৮ হাজার পুলিশ সদস্য। বাকি ২৯ হাজার সদস্য সাপোর্ট ডিউটি পালন করবেন।
এবার প্রথমবারের মতো বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ ক্যামেরা থাকবে। এর মধ্যে ১৫ হাজারে সিমকার্ড যুক্ত, ১০ হাজার থাকবে অফলাইনে। পাশাপাশি থাকবে ৫০০ ড্রোন ও প্রায় ৫০টি ডগ স্কোয়াড।
শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত প্রস্তুতি। ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ বলছে, ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এই তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে নির্ধারিত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রবেশপথ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে চলছে তল্লাশি।



