৯ বার তদন্তের পরও কেন ছাড়পত্র, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন শাহনাজ মুন্নীর

শাহনাজ মুন্নীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি : আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত মশার কয়েল কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার প্রতিবাদে ও তা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী।
আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়টি তদন্তে এলাকাটি আবাসিক প্রমাণিত হওয়ায় কারখানার অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছিল। তবে আগামী ৬ আগস্ট আপিল শুনানির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে আবার ছাড়পত্র ফিরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
৩০ বছরের সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারে অন্যের বহু সংবাদ সম্মেলন কভার করলেও এবার পরিবেশ সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিজেকেই ক্ষোভ ও আকুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে বলে জানান আবেগাপ্লুত শাহনাজ মুন্নী।
‘প্রস্তাবিত বিষাক্ত এই কারখানাটি চালু হলে এলাকাটির মসজিদ, মন্দির, মহিলা মাদ্রাসা ও বাড়িঘরের বাতাস এতটাই দূষিত হবে যে সাধারণ মানুষের বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়বে’, বলছিলেন শাহনাজ।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নয়াপুর গ্রামের মসজিদের প্রতিনিধি মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের প্রতিনিধি সাধন সাহা এবং পরিবেশসংগ্রামী কবি শাহেদ কায়েস।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শাহনাজ মুন্নী জানান, কারখানার বিষয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান ও শাখা কার্যালয় থেকে মোট ৯ বার তদন্ত পরিচালিত হয়। প্রতিটি তদন্তেই স্থানটি স্পষ্টত আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেখানে মশার কয়েল কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প না বসানোর বিষয়ে নিশ্চিত মতামত দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহনাজ মুন্নী বলেছেন, নয়-নয়টি বিশদ তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত মাত্র ১৫ মিনিটের শুনানিতে কীভাবে পাল্টে যায়?
মুন্নী অভিযোগ করেন, আপিল ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল নিজ স্বার্থে পরিবেশগত ছাড়পত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।
‘ঠিক এই এলাকাতেই ইমাম পোলট্রি ফার্ম পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করায় আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তা বন্ধ করা হয়। সেই একই স্থানে আরও মারাত্মক দূষণকারী কয়েল কারখানা গড়ার উদ্যোগ প্রকারান্তরে আদালত অবমাননারই নামান্তর’, স্মরণ করিয়ে দেন শাহনাজ।
মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি প্রস্তাবিত ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্রের আবেদন স্থায়ীভাবে নামঞ্জুর করার জোর দাবি জানান। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতে আপিলের বিধান চালু করারও আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। তবে এই মুহূর্তে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।





