প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশে করতে হবে

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
প্রাণিসম্পদ খাতের টিকার চাহিদা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, দেশে টিকার শতভাগ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও এ খাত গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিকল্প নেই। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে।
বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপিতেও হাইব্রিড!
২৯ অক্টোবর ২০২৬
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রপ্তানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ, প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষিজমির অপচয় না করে বিকল্প জমি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইয়ের ক্যাটল গবেষণা ও ভেড়া গবেষণা খামার পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারও পরিদর্শন করেন।




