মাদ্রিদে স্পেনের স্টেট সেক্রেটারির সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সংগৃহীত ছবি
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্টেট সেক্রেটারি ফর ফরেন অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স’ ডিয়েগো মার্টিনেজ বেলিয়োর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার মাদ্রিদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতেই স্পেনের টলেডোতে ঘটা ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। সমবেদনা জানান শোকসন্তপ্ত পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গঠনমূলক বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিদ্যমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষই ব্যবসায়িক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজনসহ নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর জোর দেয়।
প্রতিমন্ত্রী সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ক্রীড়া কূটনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতি, শিল্পকলা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা মতবিনিময় করেন। সারা দেশে খেলাধুলার প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, খেলাধুলা জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মূল্যবান অবদান এবং দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে তাদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী দক্ষ অভিবাসনের জন্য বৈধ পথ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ (ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ) উদ্যোগে স্পেনের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে স্পেন। ডিয়েগো মার্টিনেজ বেলিয়ো ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেন এবং এসব প্রচেষ্টায় স্পেনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। উভয়পক্ষের সম্মতিতে দ্বিপাক্ষিক দলিলগুলো চূড়ান্তকরণ এবং অন্যান্য চলমান আলোচনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।
এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় বাংলাদেশ-স্পেন ফরেন অফিস কনসালটেশন (পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শ সভা) আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে উভয় পক্ষই উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ও বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।



